আমিরুল মোমেনিন: টিন্ডার। একবিংশ শতকের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেমের প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। অজস্র মানুষ এখানে তাদের মনের মানুষ খুঁজে পান, কেউ কেউ জীবনের সঙ্গীও। কিন্তু সেই অ্যাপ থেকেই শুরু হওয়া একটি আলাপ কিভাবে ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তা বোঝা যায় “হেলেন অফ টিন্ডার” নামে পরিচিত এক তরুণীর ঘটনায়।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এই অস্বাভাবিক প্রেমের কাহিনির সূচনা হয়। ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে টিন্ডারে পরিচয় হয় ২৯ বছর বয়সী এক তরুণের। তাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বার্তা চালাচালি হয়, এরপর একবার দেখা করেন। ছেলেটি দেখতে-শুনতে ভালো, স্মার্ট, তবে খুব সাবধানী। একবার দেখা হওয়ার পরই সে সিদ্ধান্ত নেয়, এই সম্পর্কে আর এগোনো ঠিক হবে না। বিনয়ের সঙ্গে মেয়েটিকে জানিয়ে দেন, সম্পর্কটি এখানেই শেষ করতে চান।
কিন্তু মনের ভিতর অন্য কিছু গাঁথছিল মেয়েটির। তার মধ্যে একরকম একগুঁয়েমি, তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ভালবাসা না পাওয়ার প্রতিশোধস্পৃহা কাজ করছিল। কয়েকদিন কোনো যোগাযোগ না থাকার পর হঠাৎ একদিন মেয়েটি ছেলেটিকে বার্তা পাঠিয়ে অনুরোধ করে, সে যেন একবার তার বাসায় আসে। ছেলেটি ভাবলেন, হয়তো মীমাংসার জন্য বা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দেখা করতে চায়।
কিন্তু সেই সফর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি দরজা বন্ধ করে দেন, ছেলেটিকে একটি চেপে ধরা কক্ষে নিয়ে যান, যা বাড়ির বেসমেন্টে অবস্থিত। সেই কক্ষে ছিল একটি ইস্পাত নির্মিত খাঁচা, যা দেখতে অনেকটা পশুপাখি রাখার খাঁচার মতো, তবে আকারে বড়। খাঁচার ভেতরে বসিয়ে তাকে তালাবদ্ধ করেন।
পরবর্তী নয় দিন ছেলেটিকে সেখানে আটকে রাখা হয়। মেয়েটি সময়মতো খাবার ও পানি দিলেও, তার আচরণ ছিল ভীতিকর। কখনও বলতেন, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, কখনও বলতেন, “তুমি পালাতে পারবে না”, আবার কখনও হুমকি দিতেন আত্মহত্যার। একেক সময় হাসি, একেক সময় কান্না, আবার কখনও সম্পূর্ণ নিরবতা—তরুণ যেন এক মানসিক আতঙ্কের জগতে বন্দী হয়ে পড়েন।
একদিন হঠাৎ করে মেয়েটির এক বান্ধবী বাসায় আসে। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ শুনে সে সন্দেহ করে, এবং পরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে বেসমেন্ট থেকে তরুণকে উদ্ধার করে। খাঁচার তালা ভেঙে বের করা হয় তাকে। মেয়েটিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে মেয়েটি স্বীকার করেন যে তিনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন না। তদন্তে জানা যায়, অতীতে তিনি একাধিকবার মানসিক সমস্যার জন্য থেরাপি নিয়েছিলেন। বিচারক তাকে সরাসরি জেলে না পাঠিয়ে মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রেরণ করেন।
এই ঘটনা শুধু টিন্ডার নয়, সমগ্র অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। ভালোবাসা যদি কোনো একপাক্ষিক জেদে পরিণত হয়, তবে তার পরিণতি হতে পারে ভয়ংকর।
আপনার মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না
এই কাহিনি আমাদের শেখায়, ভালোবাসা মানে জোর নয়, মানে সম্মান ও সম্মতি। আপনার আশপাশে এমন কিছু লক্ষ্য করলে চোখ বন্ধ করবেন না। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে লাইক দিন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। সচেতন হোন, সচেতন করুন।










