Home Third Lead যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৬১ হাজার টন গম এলো

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৬১ হাজার টন গম এলো

মোট আমদানি আড়াই লাখ টনের কাছাকাছি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সরকারি মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৬০ হাজার ৯৫০ টন গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ নিয়ে জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট চার দফায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ টন গম দেশে পৌঁছাল।

চতুর্থ চালানের বিস্তারিত
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নগদ ক্রয় চুক্তি ‘জি-টু-জি-০১’ এর আওতায় এই গম আমদানি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গমবাহী জাহাজ ‘এমভি লোল্যান্ডস প্যাট্রাসচি’ (MV LOWLANDS PATRASCHE) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে।

বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই খাদ্য বিভাগের নির্দেশে জাহাজে থাকা গমের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় গমের মান সন্তোষজনক প্রমাণিত হলেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে জাহাজ থেকে গম খালাস শুরু হবে।

ধারাবাহিক আমদানি ও পূর্ববর্তী চালান
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত দেড় মাসে চারটি ধাপে গম দেশে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • প্রথম চালান: ২৫ অক্টোবর, ৫৬ হাজার ৯৫৯ টন।
  • দ্বিতীয় চালান: ৩ নভেম্বর, ৬০ হাজার ৮০২ টন।
  • তৃতীয় চালান: ১৫ নভেম্বর, ৬০ হাজার ৮৭৫ টন।
  • চতুর্থ চালান (বর্তমান): ৫ ডিসেম্বর, ৬০ হাজার ৯৫০ টন।

খালাস প্রক্রিয়া ও বিতরণ পরিকল্পনা
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বহির্নোঙরে বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) থেকে ছোট লাইটার জাহাজে করে এই গম খালাস করে দেশের বিভিন্ন সরকারি সাইলো বা খাদ্যগুদামে পাঠানো হবে। চট্টগ্রাম সাইলোর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার সাইলোতেও এই গমের একটি বড় অংশ সংরক্ষণ করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আমদানিকৃত এই গম মূলত সরকারি বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, যেমন—ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস), টিসিবি’র ফ্যামিলি কার্ড, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশন হিসেবে বিতরণ করা হবে।

বাজার স্থিতিশীলতায় প্রভাব
চলতি বছর গমের আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল থাকলেও, জি-টু-জি চুক্তির আওতায় নিয়মিত গমের চালান আসায় দেশের বাজারে গমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধারাবাহিকভাবে গমের এই বিশাল চালান পৌঁছানোর ফলে স্থানীয় বাজারে আটা-ময়দার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ থাকবে না।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট গম আমদানির জন্য জাহাজীকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।