Home Third Lead বিইআরসির ‘কাগজি’ দর বনাম সিন্ডিকেটের ‘আসল’ বাজার: দিশেহারা এলপিজি গ্রাহক

বিইআরসির ‘কাগজি’ দর বনাম সিন্ডিকেটের ‘আসল’ বাজার: দিশেহারা এলপিজি গ্রাহক

ছবি এ আই
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নতুন বছরের শুরুতেই দেশের রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে এক চরম অরাজকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

খোদ রাজধানী ঢাকাতেই এই সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১,৮০০ থেকে ২,১০০ টাকা পর্যন্ত।

সরকার যেখানে দাম বাড়িয়েছে মাত্র ৫৩ টাকা, সেখানে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ থাকলেও তারা ‘সরবরাহ সংকট’-এর অজুহাত দিচ্ছে। অনেক বিক্রেতা সিলিন্ডার দোকানে না রেখে ভেতরে লুকিয়ে রাখছে এবং পরিচিত ক্রেতা ছাড়া চড়া দামে বিক্রি করছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, বিইআরসি প্রতি মাসে ঘটা করে দর ঘোষণা করলেও বাজারে এর কোনো প্রয়োগ নেই।

 কেন এই অস্থিরতা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারিতে সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস (CP) সামান্য বাড়লেও বাজারে যে দাম বেড়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:

কৃত্রিম সংকট: বড় বড় অপারেটর এবং ডিলাররা নতুন দাম ঘোষণার অপেক্ষায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল।

তদারকির অভাব: বিইআরসি দর নির্ধারণ করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে জোরালো অভিযান না থাকায় সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শীতকালীন চাহিদা: শীতের প্রকোপ বাড়ায় এবং পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কম থাকায় এলপিজির ওপর চাপ বেড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

নারিন্দার বাসিন্দা ফারজানা নীলা বলেন, “টিভি-পত্রিকায় দেখলাম দাম ১৩০৬ টাকা, কিন্তু দোকানে গেলে দোকানদার ১৮০০ টাকার নিচে কথা বলছে না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই উৎসব কি কেউ থামাবে না?”