বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে সরে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সংসার পেতেছিলেন সেলিনা জেটলি। কিন্তু সেই ‘রূপকথার’ আড়ালে যে কতটা ভয়াবহ নরক যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী।
স্বামী পিটার হগের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সেলিনা যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, তা শুনে শিউরে উঠছে নেটপাড়া।
বিয়ের উপহার যখন ডিভোর্স নোটিস
সেলিনা জানিয়েছেন, গত বছর তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে উপহার দেওয়ার নাম করে তাঁকে স্থানীয় একটি পোস্ট অফিসে নিয়ে যান পিটার। সেখানে পৌঁছে উপহারের বদলে সেলিনার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ডিভোর্সের নোটিস।
শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নামমাত্র কিছু টাকা ফেলে দিয়ে রাতারাতি তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সেলিনার কথায়, “২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে প্রাণ হাতে নিয়ে আমি দেশ ছেড়েছিলাম।”
যৌনপুতুল ও ‘অফিস প্রমোশন’
আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগে সেলিনা জানিয়েছেন, ২০১৪-১৫ সাল থেকেই পিটারের বিকৃত লালসার শিকার হতেন তিনি। তাঁর অভিযোগ:
কদর্য প্রস্তাব: অফিসের পদমর্যাদা বাড়ানোর জন্য সেলিনাকে তাঁর (পিটারের) উচ্চপদস্থ সহকর্মীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন পিটার।
যৌন নির্যাতন: প্রতিদিন রাতে চলত অকথ্য মারধর এবং অস্বাভাবিক যৌনচার। সেলিনার দাবি, তাঁকে স্রেফ একটি ‘যৌনপুতুলে’ পরিণত করেছিলেন তাঁর স্বামী।
হুমকি: ২০১২ সালের দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পিটারের হুমকি ছিল, কথা না শুনলে তাঁর যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।
সন্তানদের নিয়ে টানাপড়েন
সেলিনা এবং পিটারের তিন সন্তান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বাবার কাছে রয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে ‘জয়েন্ট কাস্টডি’ বা যৌথ হেফাজতের নির্দেশ থাকলেও সেলিনাকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
অভিনেত্রীর দাবি, সন্তানদের ব্রেনওয়াশ করা হচ্ছে এবং মায়ের বিরুদ্ধে বিষিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ক্যারিয়ার ধ্বংসের নীল নকশা
২০১১ সালে হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হগকে বিয়ে করার পর থেকেই সেলিনার ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা শুরু হয়। অভিনেত্রীর মতে, পিটার একজন ‘নার্সিসিস্টিক’ ব্যক্তি, যার মনে স্ত্রী বা সন্তানদের জন্য কোনো সহমর্মিতা নেই।
বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক সন্তানের মৃত্যুর শোক কাটানোর আগেই স্বামীর এই নৃশংসতা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন লাইমলাইটের আড়ালে থাকলেও সেলিনা জেটলির এই লড়াই এখন টক-অফ-দ্য-টাউন। আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সন্তানদের ফিরে পান কি না, এখন সেটাই দেখার।