বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ভ্রমণের চিরচেনা দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। এক সময় বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস দেখানোর যে ঝক্কি ছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এখন অতীত হতে চলেছে। বিশ্বের প্রধান বিমানবন্দরগুলো এখন পূর্ণাঙ্গ ‘বায়োমেট্রিক চেক-ইন’ এবং ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ (মুখমন্ডল শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি গ্রহণ করছে, যা যাত্রী অভিজ্ঞতাকে দিচ্ছে এক অনন্য উচ্চতা।
আপনার মুখই এখন আপনার পাসপোর্ট
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং লন্ডনের হিথ্রোর মতো বড় বিমানবন্দরগুলো এখন এমন এক সিস্টেমে কাজ করছে যেখানে যাত্রীর মুখমন্ডলই ডিজিটাল টোকেন হিসেবে কাজ করে। চেক-ইন থেকে শুরু করে ব্যাগ ড্রপ, সিকিউরিটি এবং ইমিগ্রেশন—প্রতিটি ধাপে আর কাগজের নথি দেখানোর প্রয়োজন পড়ছে না।
উন্নত এআই (AI) ক্যামেরার মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অপেক্ষার সময় হ্রাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় গড়ে ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত কমেছে। আগে যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন সেখানে মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
এটি কেবল যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক নয়, বরং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ভিড় সামলানো সহজ করে তুলেছে।
নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা
বায়োমেট্রিক্স বাধ্যতামূলক করার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। জাল পাসপোর্ট বা ভুয়া পরিচয় শনাক্ত করতে মানুষের চোখের চেয়ে এআই এবং বায়োমেট্রিক ডেটা অনেক বেশি নির্ভুল। তবে, যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা (Data Privacy) রক্ষায় কঠোর এনক্রিপশন এবং নির্দিষ্ট সময় পর ডেটা মুছে ফেলার মতো আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA)-এর ‘ওয়ান আইডি’ (One ID) উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখন তাদের ডেটাবেজ শেয়ার করছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি বিমানবন্দরের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সেবা বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে।
অনেক দেশে এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই যাত্রীরা বাড়ি থেকে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানে ওঠার সুবিধা পাচ্ছেন।
কাগজবিহীন এবং স্পর্শহীন (Touchless) এই যাত্রা ব্যবস্থা এভিয়েশন সেক্টরের জন্য একটি বিশাল বিবর্তন। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতা প্রমাণ করছে যে, ভবিষ্যৎ ভ্রমণ হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং বিড়ম্বনাহীন।