মা ও শিশুদের ফুসফুসে বিষ ছড়াচ্ছে সনাতন চুলা
হেলথ ডেস্ক: ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে তীব্র শীত মোকাবিলায় ঘরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে কাঠ পোড়ানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যক্তিগত হিটার ও ফায়ারপ্লেসে কাঠ পোড়ানো অনেক দেশে স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এই ধোঁয়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। কাঠ পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কণার কারণে হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
ইউরোপীয় এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে শীতকালে কাঠ পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে PM2.5 কণার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব ক্ষতিকর কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং হার্ট অ্যাটাকের হার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক শহরে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপের তুলনায় বাংলাদেশের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এখানে কাঠ, খড় ও শুকনা গোবর পোড়ানো শুধু শীত নিবারণের বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার এখনও এসব জ্বালানি দিয়ে রান্না করে। শীতকালে বদ্ধ ঘরে জমে থাকা ধোঁয়া নারী ও শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
অন্যদিকে, শীত মৌসুমে ইটভাটার ধোঁয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এতে হৃদরোগী ও সিওপিডি রোগীদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুষ্ক মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ায় দূষিত কণার স্থায়িত্বও বাড়ছে।
চিকিৎসকরা উন্নত চুলা ব্যবহার, খড় বা টায়ার পোড়ানো বন্ধ, উচ্চ দূষণের সময় N95 মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের ভেতরে বাতাস পরিশোধনকারী গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এই নীরব ঘাতক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com









