Home Second Lead ১৯ বছর পর চেনা মুখ: প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আবেগাপ্লুত কর্মচারীরা

১৯ বছর পর চেনা মুখ: প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আবেগাপ্লুত কর্মচারীরা

ছবি : পিএম অফিস
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দীর্ঘ ১৯ বছরের ব্যবধান। অনেকের চুলের ভাঁজে পাক ধরেছে, বয়সের ছাপ পড়েছে চেহারায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্মৃতিশক্তি আর মমতায় এতটুকুও ভাটা পড়েনি। আজ শনিবার সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিস্মিত ও বিমোহিত করেছে।
শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার প্রথম কার্যদিবস।
স্মৃতির টানে কর্মচারীর কাছে ছুটে যাওয়া
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ থমকে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী। ভিড়ের মাঝে দূর থেকে এক কর্মচারীকে দেখে চিনতে পেরে সরাসরি নাম ধরে ডাক দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে নিজের নাম শুনে ওই কর্মচারী মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেও পরক্ষণেই নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে দৌঁড়ে আসেন নেতার কাছে। প্রধানমন্ত্রী পরম মমতায় তার সাথে করমর্দন করেন এবং অত্যন্ত আপনজনে মতো তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।
দীর্ঘ ১৯ বছরের অটুট বন্ধন
২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতেন, তখন এই কর্মচারীরা ছিলেন তরুণ ও নবীন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে এসে তাদের ভুলে যাননি তারেক রহমান।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী একে একে আরও বেশ কয়েকজন পুরনো কর্মচারীকে নাম ধরে ডেকে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সময়ে কাজ করেছেন এমন অনেকেই এখনো এখানে আছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের চিনতে ভুল করেননি। তাদের নাম ধরে ডাকা এবং কুশল বিনিময় করার বিষয়টি সবাইকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।”
আবেগঘন মুহূর্ত শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাগানে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ের ‘রেড ব্লকে’ নিজের চেম্বারে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে তিনি মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতা ও সাধারণ কর্মচারীদের প্রতি এমন আন্তরিক আচরণ কার্যালয়ের প্রতিটি স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পদ-পদবির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি এমন ভালোবাসা এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের সাথে শেয়ার করুন।