বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের দরপতনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বিগত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও, যেখানে স্বর্ণের দাম এখন আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র
আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (Spot Gold) দাম ১.২% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬৩.৬০ মার্কিন ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ২% বেড়ে ৫,১৮৪.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশের বাজারে বর্তমান দর
আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন মূল্য কার্যকর করেছে। আজকের বাজার দর অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৫৮,৮২৪ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৪৬,৯৯৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১১,৭১০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৭৪,২৯৮ টাকা।
উল্লেখ্য যে, অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে এই মূল্যের সাথে ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মজুরি যুক্ত হবে।
কেন এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি?
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তিনটি প্রধান কারণে স্বর্ণের বাজার উত্তপ্ত: ১. ডলারের দুর্বলতা: বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মান কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। ২. নীতিগত অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ৩. নিরাপদ সম্পদ: শেয়ার বাজার বা অন্যান্য অস্থির বিনিয়োগের চেয়ে মানুষ এখন স্বর্ণকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাজুস অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
নিয়মিত এমন আপডেট পেতে businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।