Home First Lead বাবার কান্না থামালেন প্রধানমন্ত্রী: ১ ঘণ্টাতেই উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্র

বাবার কান্না থামালেন প্রধানমন্ত্রী: ১ ঘণ্টাতেই উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্র

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সচিবালয়ের করিডোর দিয়ে কান্নার রোল শুনে থমকে দাঁড়ান অনেকে। নিজের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে ঢুকে পড়েন খন্দকার শামীম নামে এক সচিবালয় কর্মচারী। তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কিন্তু বিষাদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি প্রধানমন্ত্রী। তার সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র এক ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুল থেকে বের হওয়ার পর অপহৃত হয় ছেলেটি। জোরপুকুর এলাকায় একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে তাকে আটকে রেখে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে কল করে দাবি করা হয় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ। টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা।

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা বাবা সরাসরি আশ্রয় নেন প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, খন্দকার শামীমের আকুতি শুনে প্রধানমন্ত্রী মুহূর্তেই বিচলিত হন এবং বিলম্ব না করে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর অভিযানে নামে রমনা বিভাগ। ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে শুরু হয় সুক্ষ্ম এক ‘অপারেশন’। পুলিশ কৌশলে অপহরণকারীদের সাথে দর কষাকষি শুরু করে এবং টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

কৌশল: মুক্তিপণ ৫০ হাজার থেকে ১০ হাজারে নামিয়ে এনে অপহরণকারীদের ব্যস্ত রাখা হয়।

লোকেশন ট্র্যাকিং: প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ছেলেটি খিলগাঁওয়ের ওই নির্মাণাধীন ভবনেই আছে।

উদ্ধার: অবস্থান নিশ্চিত হওয়া মাত্রই পুলিশ ওই ভবনে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ছেলের ফিরে আসার খবরে সচিবালয় এবং ছাত্রের পরিবারে বইছে স্বস্তির হাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।