Home আকাশ পথ মিয়ানমারে যাত্রীবাহী বিমানে ড্রোন হামলা

মিয়ানমারে যাত্রীবাহী বিমানে ড্রোন হামলা

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

এভিয়েশন ডেস্ক: গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার সময় মিয়ানমারের মিথকিয়ানা বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মান্দালয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত থাকা মিয়ানমার ন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (MNA) একটি ATR 72-600 যাত্রীবাহী বিমান এই হামলার শিকার হয়। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, একটি FPV সুইসাইড ড্রোন বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত জান্তা বাহিনীর উত্তর কমান্ডের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। বিমানবন্দর নিরাপত্তা রক্ষীরা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়েতে থাকা যাত্রীবাহী বিমানের ওপর আছড়ে পড়ে। বিস্ফোরণের ফলে বিমানের লেজ (Tail), সামনের অংশ (Nose) এবং মাঝের কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঘটনার সময় বিমানে থাকা এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন:”আমরা দেখলাম বিমানের লেজে আঘাত করার সাথে সাথেই আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। ঘুটঘুটে অন্ধকার আর গুলির শব্দের মধ্যে আমরা প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে এই হামলা আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল।”

এই ঘটনার পর মিথকিয়ানা বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জান্তা সরকার এই হামলার জন্য কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (KIA) এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (PDF)-কে দায়ী করে একে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে অভিহিত করেছে। এর প্রতিশোধ নিতে সামরিক বাহিনী কাচিন অঞ্চলের তিনটি ব্রিগেডে বিমান হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ড্রোনটির মূল লক্ষ্য ছিল জান্তা বাহিনীর সদর দপ্তর, কিন্তু নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে সেটি বিমানে গিয়ে পড়ে। হামলার বিষয়ে এখনো কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরাসরি দায় স্বীকার করেনি।


businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এ বিষয়ে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।