জেফরি এপস্টাইন কেবল রাজনীতি বা ব্যবসা নয়, বিজ্ঞানের জগতেও নিজের জাল বিস্তার করেছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সেন্ট থমাসে এপস্টাইনের অর্থায়নে আয়োজিত একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং আরও ২৩ জন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী।
১. নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর দাবি ২০১৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী ফিলিপ পিবলস, যিনি ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সম্প্রতি একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, সম্মেলনের বিরতির সময় হঠাৎ করেই বেশ কিছু অল্পবয়সী তরুণী সেখানে আবির্ভূত হয়। তারা কোনো কথা না বলে কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত। পিবলস এখন বিশ্বাস করেন, তারা ছিল এপস্টাইনের সেই পাচারকৃত ভুক্তভোগীদের অংশ।
২. স্টিফেন হকিং ও ভাইরাল ছবি এপস্টাইন ফাইল থেকে একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে যেখানে স্টিফেন হকিংকে দুজন তরুণীর সাথে দেখা যাচ্ছে। হকিংয়ের পরিবার জানিয়েছে, ওই নারীরা ছিলেন তার সার্বক্ষণিক সেবিকা (Carers)। তবে এপস্টাইনের ফাইলে এই ছবি থাকা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও হকিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কাজের প্রমাণ মেলেনি, তবুও এপস্টাইন তাকে তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এ বারবিকিউ পার্টি এবং সাবমেরিন ট্যুরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
৩. কুখ্যাত অভিযোগ ও খণ্ডন এপস্টাইনের অন্যতম ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন যে, হকিং ওই দ্বীপে একটি অনৈতিক আসরে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এমনকি এপস্টাইন নিজেই তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন এই দাবিটি ভুল প্রমাণ করতে। এফবিআই-এর নথিতেও হকিং সম্পর্কে কিছু অসমর্থিত তথ্য পাওয়া গেছে, যা হকিংয়ের পরিবার কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে।
৪. বিজ্ঞানীদের ‘বশ’ করার কৌশল এপস্টাইন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়গুলোতে আগ্রহ দেখিয়ে বড় বড় বিজ্ঞানীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। পিবলসের মতে, এপস্টাইন নিজেকে একজন ‘বিজ্ঞান অনুরাগী পরোপকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করে নিজের ইমেজ পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সেই সম্মেলনের মাঝখানে অল্পবয়সী মেয়েদের রহস্যময় উপস্থিতি আজ অনেক বড় প্রশ্ন রেখে গেছে।