Home কৃষি আলুর বাজারে ধস: নওগাঁর কৃষকদের হাহাকার

আলুর বাজারে ধস: নওগাঁর কৃষকদের হাহাকার

  • উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের পার্থক্য
  •  হিমাগার সংকট ও সিন্ডিকেট
  • রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাব
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, নওগাঁ: চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে বিঘাপ্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই বাড়তি উৎপাদনই এখন কৃষকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 কৃষকদের ভাষ্যমতে, এবার সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে এক বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ তুলতে প্রতি মণ আলুর দাম অন্তত ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা হওয়া প্রয়োজন। ফলে প্রতি মণে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা।
নওগাঁর স্থানীয় হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, হিমাগার কর্তৃপক্ষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ কৃষকরা আলু রাখার পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে কম দামে মাঠেই আলু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
 কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দেশে আলুর চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত থাকছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযুক্ত মান বজায় রাখা এবং দেশে পর্যাপ্ত আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (যেমন চিপস বা পাউডার তৈরির কারখানা) না থাকায় এই বাড়তি আলুর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য: জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে সব আলু বাজারে না ছেড়ে ধাপে ধাপে বিক্রি করার জন্য। তবে সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় কৃষকদের পক্ষে এই পরামর্শ মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

businesstoday24.com ফলো করুন। আপনার এলাকায় আলুর বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কেমন? মন্তব্য করে আমাদের জানান।