Home First Lead হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রচণ্ড বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রচণ্ড বিস্ফোরণ

২০ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ৩

শিপিং ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাল্ক ক্যারিয়ার (পণ্যবাহী জাহাজ) হামলার শিকার হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। রয়্যাল থাই নেভি এবং ওমানি কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের মালিকানাধীন জাহাজ ‘ময়ূরী নারি’ (Mayuree Naree) সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর থেকে ভারতের গুজরাটের কান্ডালা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় হঠাৎ অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা দুটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হতে পারে) জাহাজটির খোলে আঘাত করে।
থাই নৌবাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন রুম এবং ওপরের অংশ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। জীবন বাঁচাতে অনেক নাবিক লাইফ র‍্যাফটে করে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
জাহাজে মোট ২৩ জন থাই নাবিক ছিলেন। ঘটনার পরপরই ওমানি নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ওমানের খাসাব বন্দরে নিয়ে যায়। তবে ইঞ্জিন রুমে কর্মরত ৩ জন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের পর তারা ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে দেখা হচ্ছে। ইরান সম্প্রতি তাদের তেল রপ্তানিকারক প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই পথ দিয়েই বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, বুধবার একই অঞ্চলে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে থাই জাহাজটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিপ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, ‘ময়ূরী নারি’ বর্তমানে ওমান উপকূলের কাছে অত্যন্ত ধীরগতিতে (১ নট গতিতে) ভাসছে। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘প্রেশাস শিপিং’ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে।
এই হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।