Home আন্তর্জাতিক কালাদান প্রকল্প মিয়ানমার সরকারের হাতছাড়া, নিয়ন্ত্রণে আরাকান আর্মি

কালাদান প্রকল্প মিয়ানমার সরকারের হাতছাড়া, নিয়ন্ত্রণে আরাকান আর্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৪৮৪ মিলিয়ন ডলারের ‘কালাদান মাল্টি-মডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’ (KMMTTP) নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলা বিধানসভায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতাধীন এলাকাগুলোর ওপর মিয়ানমার সরকারের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বর্তমানে এই কৌশলগত করিডোরটি পরিচালনা করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA)। নতুন ‘শাসক’ ও মিজোরামের সমীকরণ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিজোরাম সরকার আরাকান আর্মির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। মূলত কালাদান হাইওয়ে দ্রুত চালু করার স্বার্থেই এই সমঝোতা। মিয়ানমার জান্তা এখন এই এলাকায় কার্যত অনুপস্থিত এবং আরাকান আর্মি এই রুটটি সচল করতে অত্যন্ত আগ্রহী। সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মিজোরাম সরকার ইতোমধ্যে একটি ‘ইমপ্যাক্ট স্টাডি টিম’ গঠন করেছে।
বর্তমানে এই রুটে বাণিজ্য চললেও তা কোনো দাপ্তরিক কাঠামোর মধ্যে নেই। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পণ্য পরিবহনে দুই পক্ষকেই অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে। আরাকান আর্মি পণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি ৫% কর আদায় করছে। অন্যদিকে, মিজোরামের ভেতরে তিনটি পুলিশ চেকপোস্টে ব্যবসায়ীদের অনানুষ্ঠানিক ফি দিতে হচ্ছে। মূলত মিজোরাম থেকে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধ বর্তমানে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।
লংতলাই জেলা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ব্যাপক হারে মানুষের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আসাম রাইফেলস এবং বিএসএফ-এর সমন্বয়ে একটি যৌথ নজরদারি টিম কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
২০০৮ সালে ভারত ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই প্রকল্পটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে জান্তা সরকারের পতন এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সরাসরি উত্থান প্রকল্পটিকে এক আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দুই পক্ষের এই ট্যাক্স বা করের বোঝা কিছুটা কমলে বাণিজ্যে গতি ফিরবে।

কালাদান প্রকল্প এখন আর স্রেফ দুই দেশের সরকারের বিষয় নয়; বরং এটি এখন একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং একটি রাজ্য সরকারের সরাসরি ও পরোক্ষ সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।