আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রাণী বনরুই (প্যাঙ্গোলিন) রক্ষায় কড়াকড়ির মধ্যেই সিঙ্গাপুরে ধরা পড়ল এর আঁশের এক বিশাল চালান। দেশটির ন্যাশনাল পার্কস বোর্ড শনিবার জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর একটি লরিতে তল্লাশি চালিয়ে ৮৩০ কেজি ওজনের এশিয়ান প্যাঙ্গোলিনের আঁশ জব্দ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত এশিয়ান প্যাঙ্গোলিন আঁশের বৃহত্তম চালান।
মিথ্যা ঘোষণায় পাচার: পাচারকারীরা এই মূল্যবান আঁশগুলোকে ‘শুটকি মাছের চামড়া’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৩০টি ব্যাগে করে পাচার করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালানটি ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে কম্বোডিয়ার দিকে যাচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জব্দকৃত আঁশের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি সংগ্রহ করতে অন্তত ২ হাজার ২০০টি ‘সুন্দা প্যাঙ্গোলিন’ হত্যা করা হয়েছে। এই প্রজাতিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে পরিচিত।
কেন এই পাচার? মূলত চীন এবং ভিয়েতনামের প্রথাগত চিকিৎসায় এই আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চিকিৎসায় কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও হাঁপানি, চর্মরোগ ও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির টোটকা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। অথচ এই আঁশ মূলত মানুষের নখের মতো সাধারণ ‘কেরাটিন’ দিয়ে তৈরি।
এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর মাংসকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও ঝুঁকি: সিঙ্গাপুর বন্যপ্রাণী পাচার রোধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। জড়িতদের বিপুল পরিমাণ জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হবে।
আন্তর্জাতিক আইন (CITES) অনুযায়ী বনরুইয়ের বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশবাদীদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বনরুই নিধন চললে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান ভেঙে পড়বে, কারণ একটি বনরুই বছরে কয়েক কোটি উইপোকা ও পিঁপড়া খেয়ে বন রক্ষা করে।