আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর গর্ব এবং আকাশপথের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত E-3 সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS) ইরানের এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে। ২৮ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, “ইরানের কাছে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই।”
ব্লুমবার্গ নিউজ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ (WSJ) একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ স্থানীয় সময় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় ঘাঁটিতে অবস্থানরত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলায় কেবল সেনারাই নয়, মার্কিন বিমান বাহিনীর রণকৌশলগত সক্ষমতার ওপর বড় আঘাত এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
একটি E-3 সেন্ট্রি AWACS সম্পূর্ণ ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে।
তিনটি KC-135 এরিয়াল রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত E-3 সেন্ট্রি বিমানটির লেজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। তবে ছবিগুলো এআই (AI) দ্বারা তৈরি কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কেন এই ক্ষতি অপূরণীয়?
E-3 সেন্ট্রি মূলত বোয়িং ৭০৭ জেটলাইনারের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর বিশেষত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম:
আকাশের চোখ: এর ওপরের বিশালাকার ঘূর্ণায়মান রাডার ডোম কয়েকশ মাইল দূরের শত্রুপক্ষকে শনাক্ত করতে এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমানকে দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম।
বিপুল ব্যয়: একটি বিমানের দাম প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি)।
ঐতিহাসিক পতন: ১৯৭০-এর দশকে কার্যক্রম শুরু করার পর এই প্রথম কোনো E-3 সেন্ট্রি বিমান সরাসরি যুদ্ধে ধ্বংস হলো। এর আগে তিনটি বিমান ধ্বংস হলেও সেগুলো ছিল নিছক দুর্ঘটনা।
- সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া: অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী কর্নেল জন ভেনাবল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, “E-3 সেন্ট্রি ধ্বংস হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।” তিনি আরও জানান, এই বিমানের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এর বিকল্প খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক পরদিনই এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনাকে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল।










