Home First Lead হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: তেলের দামে আগুন, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: তেলের দামে আগুন, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী—যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান এই প্রণালীর ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অবস্থানে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলবাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইতোমধ্যেই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, প্রণালী ঘিরে নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ইরান। এর ফলে জাহাজ চলাচলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে বিকল্প পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামেও চাপ তৈরি করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি নতুন করে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
অন্যথায়, এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এখন আর আঞ্চলিক ইস্যু নয়—এটি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষায়।