Home First Lead শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ: ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল...

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ: ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বোঝা

  • জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির নাম প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
  • ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
  • এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ বেক্সিমকো ও কেয়া কসমেটিকস রয়েছে তালিকার শীর্ষে।
  • খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ রেজল্যুশন ও নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবম দিনে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট খেলাপি ঋণের পাহাড় জমেছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে নিয়মিত ত্রৈমাসিক বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে আদায়ের পথে থাকা আইনি ও প্রশাসনিক বাধাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কার্যক্রম এখন সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকার্স সভা’র মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের দমনে ২০২৪ সালে জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার-০৬-এর কঠোর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংককে তাদের আইন বিভাগ আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ আদায় ত্বরান্বিত হয়।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর পদ্ধতির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে ঝুঁকি কমাতে এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকাশিত তালিকায় এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে

১. এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড

২. এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড

৩.এসআলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

৪. এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

৫. সোনালী ট্রেডার্স

৬. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড

৭. গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড

৮. চেমন ইস্পাত লিমিটেড

৯. এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড

১০. ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

১১. কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

১২. দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড

১৩. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৪. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৫. প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড

১৬. কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড

১৭. মুরাদ এন্টারপ্রাইজ

১৮. সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড

১৯. বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড

২০. রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড

businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।