Home কলকাতা শিকড় ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: হাবড়া-অশোকনগরে আজও অমলিন চট্টগ্রামের সুবাস

শিকড় ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: হাবড়া-অশোকনগরে আজও অমলিন চট্টগ্রামের সুবাস

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: দেশভাগের ক্ষত আর কাঁটাতারের সীমানা পেরিয়েও মানুষের সংস্কৃতি যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হাবড়া ও অশোকনগর। চট্টগ্রামের রাউজান বা আনোয়ারার মাটি থেকে শিকড় উপড়ে আসা মানুষগুলো যখন পশ্চিমবঙ্গে বসতি গড়েছিলেন, তখন তাঁরা সাথে করে শুধু স্মৃতি আনেননি, এনেছিলেন জীবনবোধ আর সংস্কৃতির এক গভীর সুবাস।
আজ কয়েক প্রজন্ম পরে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন পশ্চিমবঙ্গের মূলধারার সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে ঠিকই, কিন্তু ঘরের কোণে বা উৎসবের মেজাজে আজও সেই আদি চট্টগ্রামের ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
হাবড়া ও অশোকনগরের পাড়ায় পাড়ায় হাঁটলে আজও এমন সব প্রবীণ মানুষের দেখা মেলে, যাঁদের স্মৃতিতে রাউজানের পাহাড় বা আনোয়ারার শঙ্খ নদীর কলতান আজও অমলিন। তাঁদের বাচনভঙ্গিতে হয়তো আজ কলকাতার টান লেগেছে, কিন্তু ঘরোয়া আড্ডায় বা আপনজনের সাথে কথায় আজও সেই চট্টগ্রামের চাটগাঁইয়া উপভাষার মিষ্টতা ফুটে ওঠে। বিশেষ করে মেজবানি ঘরানার রান্নাবান্না, শুঁটকির নানা পদ কিংবা পিঠা-পুলির আয়োজনে চট্টগ্রামের সেই চিরায়ত ঐতিহ্য আজও সগৌরবে টিকে আছে।
পশ্চিমবঙ্গের জল-হাওয়ায় মিশে গিয়েও তাঁরা নিজেদের পূর্বপুরুষের পরিচয়কে আগলে রেখেছেন এক অদ্ভুত মমতায়।
এই মানুষগুলোর দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্ম এখন শিক্ষা, ব্যবসা ও সংস্কৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের পেশাগত জীবনে প্রবাসের কোনো ছাপ নেই, তাঁরা এ মাটিরই সন্তান। কিন্তু শিকড়ের প্রতি এক অদৃশ্য টান আজও তাঁদের রাউজান বা আনোয়ারার কথা মনে করিয়ে দেয়।
হাবড়া-অশোকনগরের বাতাসে তাই আজও মিলেমিশে থাকে দুই বাংলার মেলবন্ধন—যেখানে ওপার বাংলার ফেলে আসা মাটি আর এপার বাংলার আপন করে নেওয়া সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। এটি কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে আসা নয়, বরং এক টুকরো চট্টগ্রামকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন এক পরিচিতি গড়ার গল্প।
businesstoday24.com ফলো করুন।