Home জাতীয় কেন শেরপুরে জামায়াতের ভরাডুবি ও বিএনপির বিশাল জয়?

কেন শেরপুরে জামায়াতের ভরাডুবি ও বিএনপির বিশাল জয়?

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, শেরপুর: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর তিনগুণের বেশি ভোটে, বিশাল ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
মাহমুদুল হক রুবেল
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১২৮টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এ আসনে ৫২.১৯ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
বিপুল ব্যবধানে জয়ের কারণ হিসেবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:
ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও পারিবারিক ঐতিহ্য: মাহমুদুল হক রুবেল এই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। স্থানীয়দের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে তার শক্তিশালী যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এই বিশাল ব্যবধানে জিততে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিগত দিনের উন্নয়ন: সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, রুবেলের আগের মেয়াদে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হয়েছে, যার প্রতিদান তারা ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছেন।
দলীয় সংহতি: এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন। বিপরীতে, জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণায় সেই পর্যায়ের গণজোয়ার লক্ষ্য করা যায়নি।
জামায়াত প্রার্থীর পিছিয়ে থাকার কারণ
নির্বাচনী ফলাফলে জামায়াত প্রার্থীর বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পেছনে বিশ্লেষকরা কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ দেখছেন:
ভোট বর্জনের প্রভাব: নির্বাচনের দিন সকালেই জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর ফলে দুপুরের পর থেকে জামায়াতের একটি বড় অংশের ভোটার কেন্দ্রে যাননি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ: জাতীয় সংসদে জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক ভাঙা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। এছাড়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির “একক আধিপত্য” বজায় রাখার মানসিকতা জামায়াত প্রার্থীর ভোট কমিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এই জয়কে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াত শিবির থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি তোলা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।

ভিজিট করুন আরও নানা খবরের জন্য www.businesstoday24.com