মোস্তফা তারেক, নিউইয়র্ক: সুদূর উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে চট্টগ্রামের মানুষের পদচারণা কয়েক দশকের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন এবং টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে চট্টগ্রামের প্রবাসীদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি।
কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও তারা প্রতি বছর আয়োজন করেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রীতিভোজ ও মিলনমেলা। এই আয়োজন এখন আর কেবল খাবারের আয়োজনে সীমাবদ্ধ নেই, এটি হয়ে উঠেছে বিদেশের মাটিতে চট্টগ্রামের হাজার বছরের কৃষ্টি ও ভ্রাতৃত্বের এক বিশাল প্রদর্শনী।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন বা কুইন্সে যখন এই প্রীতিভোজের ডাক আসে, তখন সেখানে জড়ো হন হাজার হাজার প্রবাসী। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রান্নার স্বাদ আর চাটগাঁইয়া ভাষার আড্ডায় একাকার হয়ে যান কয়েক প্রজন্ম। প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের কাছে এই স্বাদ কেবল রসনার তৃপ্তি নয়, বরং নিজের শেকড় চেনার এক প্রধান মাধ্যম।
টেক্সাসের ডালাস বা হিউস্টনেও এখন নিয়মিত এই ধরনের বড় আকারের মিলনমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে যখন চট্টগ্রামের নিজস্ব ঢংয়ের বিশেষ রান্নার সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রবাসী বাংলাদেশিরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যান যে তারা দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আছেন।
সাংস্কৃতিক উৎসবের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের চট্টগ্রাম সমিতিগুলো অত্যন্ত সক্রিয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা আয়োজন করে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের অনুষ্ঠান, যেখানে কিংবদন্তি শিল্পীদের গানগুলো নতুন করে প্রাণ পায় স্থানীয় শিল্পীদের কণ্ঠে।
ওয়াশিংটন ডিসির আশেপাশে বসবাসরত চট্টগ্রামের পেশাজীবীরা প্রায়ই আয়োজন করেন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যেখানে চট্টগ্রামের লোকজ ঐতিহ্য, পোশাক এবং ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এই উৎসবগুলোতে স্থানীয় মার্কিন নাগরিকরাও অংশ নেন, যা চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আঞ্চলিক সংগঠনগুলো প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। নতুন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে আবাসন বা কর্মসংস্থানের তথ্য দিয়ে সাহায্য করা থেকে শুরু করে সামাজিক যেকোনো সংকটে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন।
বিশেষ করে বার্ষিক বনভোজন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর মাধ্যমে তারা একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন। বিদেশের মাটিতে থেকেও নিজের ভাষাকে ভালোবাসা এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে সগৌরবে লালন করার এই স্পৃহা প্রশংসার দাবি রাখে।