Home আন্তর্জাতিক ডিজিটাল জোয়ারের ধাক্কায় জাপানে ২৭ মিলিয়ন সংবাদপত্র পাঠক উধাও

ডিজিটাল জোয়ারের ধাক্কায় জাপানে ২৭ মিলিয়ন সংবাদপত্র পাঠক উধাও

ফরিদুল আলম
কয়েক দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্রের বাজার হিসেবে পরিচিত জাপানে মুদ্রিত সংবাদপত্রের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে কমেছে। জাপানের নিউজপেপার পাবলিশার্স অ্যান্ড এডিটরস অ্যাসোসিয়েশনের (NSK) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালে যেখানে মোট প্রচারসংখ্যা (Circulation) ছিল প্রায় ৫৩ মিলিয়ন কপি, ২০২৪ সাল নাগাদ তা নেমে এসেছে মাত্র ২৬ মিলিয়নে। অর্থাৎ, গত ২০ বছরে বাজার অর্ধেক হয়ে গেছে, যার সিংহভাগ পতন ঘটেছে গত ১০ বছরে।
পরিসংখ্যানে পতনচিত্র
২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই জাপানের নামিদামি পত্রিকাগুলো গড়ে ৭% থেকে ৮% পাঠক হারিয়েছে।
সাল
মোট সার্কুলেশন (প্রায়)
প্রতি পরিবারে সংবাদপত্র
২০১৪
৪৫.৩৬ মিলিয়ন
০.৮৩ কপি
২০১৯
৩৭.৮১ মিলিয়ন
০.৬৬ কপি
২০২৪
২৬.৬১ মিলিয়ন
০.৪৫ কপি
২০২৫ (প্রাক্কলন)
২৪.৮৬ মিলিয়ন
০.৪২ কপি
শীর্ষ পত্রিকাগুলোর বর্তমান অবস্থা
জাপানের ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত তিনটি প্রধান সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে:
  • ইয়োমিউরি শিমবুন: বিশ্বের এক নম্বর সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত এই পত্রিকার সার্কুলেশন এক সময় ১ কোটির উপরে থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৬ মিলিয়নে নেমেছে।
  • আসাহি শিমবুন: এক সময় ৮০ লক্ষ কপির উপরে থাকলেও ২০২৪ সালে তা ৪.৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
  • মাইনিচি শিমবুন: এই পত্রিকাটিও তাদের প্রচারসংখ্যার বড় একটি অংশ হারিয়েছে।
পতনের নেপথ্যে কারণ
১. ডিজিটাল রূপান্তর: ইয়াহু নিউজ (Yahoo! News) এবং লাইন নিউজ (LINE News)-এর মতো নিউজ অ্যাগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্মগুলো জাপানি পাঠকদের প্রাথমিক তথ্য উৎসে পরিণত হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম এখন মুদ্রিত কাগজের বদলে স্মার্টফোনে খবর পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
২. কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি: জাপানি ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় নিউজপ্রিন্ট কাগজ এবং কালি আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যা মুদ্রণ শিল্পকে আরও চাপে ফেলেছে।
৩. আর্থিক মডেলের সংকট: অনেক জাপানি প্রকাশনা সংস্থা তাদের লাভজনক প্রিন্ট ব্যবসাকে বাঁচাতে ডিজিটাল রূপান্তরে দেরি করে ফেলেছিল, যার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে।
আশার আলো: নিক্কেই মডেল
এই পতনের মধ্যেও ব্যতিক্রম হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক দৈনিক নিক্কেই (Nikkei)। তারা সফলভাবে ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন মডেলে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ২০২৪ সালে ১০ লক্ষ পেইড ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তাদের ডিজিটাল গ্রাহক সংখ্যা এখন প্রায় তাদের প্রিন্ট সংস্করণের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে জাপানের মুদ্রণ প্রকাশনা বাজার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের নিচে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে। জাপানে এখনো সংবাদপত্র পড়ার সংস্কৃতি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো হলেও, কাগজের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিনই হবে আগামীর প্রধান মাধ্যম।

বিশ্বের গণমাধ্যম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের এমন আরও বিশ্লেষণমূলক খবর পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত জানান।