ইসলামাবাদ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরুর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। গত ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া এবং আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি যেন পুনরায় সংঘাতের দিকে না মোড়ায়, তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক ও বিশ্বশক্তিগুলো তাদের প্রচেষ্টা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডন পত্রিকার বরাতে জানা যায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পর্দার আড়ালে নিরলস কাজ করছে। এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান, যাদের সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক ও মিশর। বর্তমানে সব পক্ষের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন যে, চরম উত্তেজনার মাঝেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামবাদে একটানা ২১ ঘণ্টা সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং এই আলোচনা সম্ভব করতে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিনরাত কাজ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে ফোনালাপেও শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ আরোপের দিকে এগোচ্ছে, যাকে ইরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসলামবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই আলোচনা থেকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না আসলেও, বড় ধরনের কোনো ভাঙনও ধরেনি।
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ যাতায়াতের বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কাঠামোগত মতপার্থক্যই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি চাইলেও ইরান আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে তার সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে।
এই অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্রিটেন, চীন, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছেন। চীন এই প্রক্রিয়ায় সমর্থন জানিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে অভিহিত করেছে।
কূটনীতিকদের আশা, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষ অন্তত ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হতে পারে। যদিও পরবর্তী আলোচনার স্থান নিয়ে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে—ইরান পুনরায় ইসলামাবাদকে পছন্দ করলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প ভেন্যুর কথা ভাবছে। তবুও মূল লক্ষ্য এখন একটাই, যেকোনো উপায়ে এই কূটনৈতিক জানালাটি খোলা রাখা।