আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সাময়িক বা খসড়া চুক্তিতে উপনীত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই রূপরেখা চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে রাতভর তীব্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পরদিনই এই খসড়া চুক্তির খবরটি সামনে এলো। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট জানান, এই সাময়িক চুক্তিটি অত্যন্ত জটিল এবং “বহুমাত্রিক”। এটি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই খসড়া সমঝোতার আওতায় প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং ইরানকে সেখান থেকে সব ধরনের মাইন অপসারণের কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার এবং অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়ীত্ব নির্ভর করছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পূর্ণ নজরদারিতে আনা এবং তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ পরিহার করার ওপর। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো ‘খারাপ চুক্তি’ ওয়াশিংটন মেনে নেবে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ উত্তেজনা নিরসনে ওমান ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।