Home শেয়ারবাজার ঋণের বোঝা ও উচ্চ পিই রেশিও: কপারটেকের দরবৃদ্ধিতে ঝুঁকির সিঁদুরে মেঘ

ঋণের বোঝা ও উচ্চ পিই রেশিও: কপারটেকের দরবৃদ্ধিতে ঝুঁকির সিঁদুরে মেঘ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিতিনিধি, ঢাকা: সাপ্তাহিক লেনদেনের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় চমক দেখিয়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) লেনদেন শেষে কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। তবে অস্বাভাবিক এই দাম বাড়ার পেছনে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।
লেনদেন চিত্র: একদিনেই ১০ শতাংশের লাফ
বুধবার কপারটেকের শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ২.১০ টাকা বেড়ে ২৩.১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে শেয়ারটির লেনদেন শুরু হয়েছিল ২১.৩০ টাকায়, যা দিনভর ২১.২০ টাকা থেকে ২৩.১০ টাকার মধ্যে উঠানামা করেছে। সারাদিনে ১,৫৮৬টি হাওলার মাধ্যমে কোম্পানিটির ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৩টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
আর্থিক পারফরম্যান্স ও পিই রেশিও
কোম্পানিটির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের প্রথম দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) তাদের মোট শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ছিল ০.১৫ টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় ছিল ০.১০ টাকা, যা প্রথম প্রান্তিকের (০.০৪ টাকা) তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক।
তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো এর পিই রেশিও (P/E Ratio)। বুধবারের দরবৃদ্ধির পর কোম্পানিটির আন-অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। সাধারণ বিনিয়োগের মানদণ্ডে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ট্রেইলিং পিই রেশিও ৩৬.৬৭ হলেও এটি খাতের গড় পিই রেশিও থেকে বেশ উপরে।
ঋণের বোঝা ও বিনিয়োগকারীর ধরন
কপারটেকের আর্থিক অবস্থার একটি বড় দুর্বলতা হলো তাদের ঋণের পরিমাণ। ৩০ জুন ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী:
  • স্বল্পমেয়াদী ঋণ: ৭৪৭.৫৩ মিলিয়ন টাকা।
  • দীর্ঘমেয়াদী ঋণ: ১৩৪.৬৪ মিলিয়ন টাকা।
  • পেইড-আপ ক্যাপিটাল: ৬৫৫.২০ মিলিয়ন টাকা।
অর্থাৎ, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে ঋণের পাল্লা অনেক বেশি ভারী। অন্যদিকে শেয়ার ধারণের চিত্রে দেখা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতেই রয়েছে সিংহভাগ (৫০.৪১%) শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ গত ফেব্রুয়ারির (১৯.৯৭%) তুলনায় মার্চে সামান্য বেড়ে ২২.০২% হয়েছে, তবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে মাত্র ২৭.৫৭% শেয়ার।
বিশ্লেষণ: আসলে কী ঘটছে?
মৌলিক ভিত্তির চেয়ে কপারটেকের বর্তমান দরবৃদ্ধি অনেকটা ‘স্পেকুলেটিভ’ বা অনুমিতিনির্ভর মনে হচ্ছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ লভ্যাংশ ছিল মাত্র ২.১৫ শতাংশ (২০২৫), যা এর আগের বছরগুলোর তুলনায় নিম্নমুখী। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় লভ্যাংশের হার ৭% থেকে কমে ২.১৫%-এ নেমে আসা কোম্পানির ব্যবসায়িক মন্দারই ইঙ্গিত দেয়।
অস্বাভাবিক উচ্চ পিই রেশিও এবং বড় অংকের ঋণ থাকা সত্ত্বেও একদিনে ১০ শতাংশ দাম বাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে গুজব বা বড় কোনো চক্রের কারসাজিতে এমন দরবৃদ্ধি দেখা যায়, যেখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা চড়া দামে শেয়ার কিনে লোকসানের মুখে পড়েন।

businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন