Home আন্তর্জাতিক বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হবে না তৃতীয় বিশ্ব

বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হবে না তৃতীয় বিশ্ব

ই-বর্জ্য রুখতে জাতিসংঘের কঠোর বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্ক

ফরিদুল আলম, ঢাকা:

 উন্নত বিশ্বের পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক বর্জ্যের অবৈধ পাচার বন্ধে যুগান্তকারী এক বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। নতুন এই আইন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ‘বর্জ্যের ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বিশেষভাবে ইন্টারপোলকে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ই-বর্জ্য কী এবং এর ভয়াবহতা: ই-বর্জ্য বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য বলতে মূলত পরিত্যক্ত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন ও রেফ্রিজারেটরের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামকে বোঝায়। বর্তমান বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৬২ মিলিয়ন টনের বেশি ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এগুলো কেবল আবর্জনা নয়, বরং একটি ‘বিষাক্ত বোমা’। এতে থাকা সিসা (Lead), পারদ (Mercury), ক্যাডমিয়াম ও বেরিলিয়াম মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। এসব বর্জ্য পোড়ানোর ফলে ডাইঅক্সিনের মতো মারাত্মক গ্যাস বাতাসে মিশছে, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি ও প্রজনন ক্ষমতার স্থায়ী ক্ষতি করছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য এটি এক নীরব ঘাতক।
শীর্ষ ই-বর্জ্য উৎপাদনকারী দেশসমূহ: জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ই-বর্জ্য উৎপাদনে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে চীন (বছরে ১০ মিলিয়ন টনের বেশি)। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৭ মিলিয়ন টন) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত (৩.২ মিলিয়ন টন)। তবে মাথাপিছু বর্জ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নরওয়ে, ব্রিটেন ও আইসল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলো সবচেয়ে এগিয়ে। উদ্বেগের বিষয় হলো, উৎপাদিত ই-বর্জ্যের মাত্র ২২.৩ শতাংশ সঠিকভাবে রিসাইকেল করা হয়, বাকিটা অবৈধভাবে পাচার হয়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে পৌঁছায়।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয় ও আইন: নতুন এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ‘সার্কুলার ইকনোমি’র ওপর জোর দিয়ে প্রতিটি দেশকেই তাদের উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্যের পুনর্ব্যবহার নিজ দেশেই নিশ্চিত করতে হবে। যারা এই নীতিমালা অমান্য করে বর্জ্য পাচার করবে, তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুবিধা হ্রাসের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।