Home Third Lead সমুদ্রের সেই দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে দেশে ফিরছেন ১৫ নাবিক

সমুদ্রের সেই দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে দেশে ফিরছেন ১৫ নাবিক

সংগৃহীত ছবি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: থাইল্যান্ডের উপকূলে আন্দামান সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’ (MV Sealloyd Arc) ডুবে যাওয়ার দীর্ঘ দুই মাস পর অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখছেন ১৫ জন বাংলাদেশি নাবিক। বিমা কোম্পানি এবং থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তারা দেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মুম্বাই হয়ে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
নিঃস্ব হাতে জীবন বাঁচানোর লড়াই
সিঙ্গাপুরভিত্তিক মালিকপক্ষ সি লয়েড শিপিং লাইনস সূত্রে জানা যায়,  ৭ ফেব্রুয়ারি যখন জাহাজটি ডুবতে শুরু করে, তখন নাবিকদের সামনে জীবন বাঁচানোই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। জীবন বাঁচাতে তারা এতটাই মরিয়া ছিলেন যে, কেবল পরনের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই সাথে নিতে পারেননি। তবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন নিজের এবং জাহাজের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভর্তি ব্যাগটি সাথে নিয়ে জীবন রক্ষাকারী নৌযানে উঠতে সক্ষম হন। ফুকেটের উপকূলে পৌঁছানোর পর থেকে তাদের আবাসন, খাওয়া-দাওয়া এবং প্রয়োজনীয় পোশাকসহ সব ধরনের মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করা হয়।
মানবিকতায় পাশে ছিল মালিকপক্ষ ও এজেন্ট
বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও নাবিকরা অর্থকষ্টে ভোগেননি।  ‘সি লয়েড শিপিং লাইনস’ নিয়মিতভাবে নাবিকদের বেতন-ভাতা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেছে। বাংলাদেশে তাদের স্থানীয় এজেন্ট ‘নাফ মেরিন সার্ভিসেস’ কেবল দাপ্তরিক কাজই নয়, বরং মানবিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছে। গত ঈদুল ফিতরে যখন নাবিকরা ফুকেটে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন, তখন তাদের পরিবারের অভাব মেটাতে নাফ মেরিন সার্ভিসেসের পক্ষ থেকে সেমাই, চিনি এবং নতুন পোশাক (পায়জামা ও পাঞ্জাবি) বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষ ও প্রত্যাবাসন
নাফ মেরিন সার্ভিসেস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমা প্রতিনিধিদের দীর্ঘ তদন্ত সম্প্রতি শেষ হয়েছে। সকল নথিপত্র এবং ফর্মালিটিজ যাচাইয়ের পর ১৫ জন নাবিককে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। তবে তদন্তের চূড়ান্ত কাজ শেষ করতে জাহাজের ক্যাপ্টেন বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। আরও সপ্তাহখানেক লাগতে পারে তাঁর দেশে ফিরতে।
১৫ নাবিককে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে তাদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর ভয়ংকর এক সমুদ্র দুর্ঘটনার স্মৃতি পেছনে ফেলে প্রিয়জনদের কাছে ফিরছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
বর্তমান অবস্থান ও পরিবেশগত পরিস্থিতি
ডুবন্ত অবস্থা: জাহাজটি বর্তমানে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূল (প্রমথেপ কেপ) থেকে প্রায় ৩-৫ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্দামান সাগরের তলদেশে ৬১ মিটার (প্রায় ২০০ ফুট) গভীরে নিমজ্জিত অবস্থায় আছে।
তেল নিঃসরণ: ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে জাহাজটি থেকে তেলের আস্তরণ (Oil Slick) উপকূলে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। থাই নৌবাহিনী এবং পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ‘ডিসপারসেন্ট’ ব্যবহার করে এবং ‘ব্যারিয়ার’ দিয়ে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে তেলের কিছু অংশ ফুকেটের কাছাকাছি রাচা দ্বীপপুঞ্জের সৈকতে পৌঁছানোর পর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
ধ্বংসাবশেষ শনাক্তকরণ: সমুদ্রের তলদেশে জাহাজটির মাস্তুল পানির খুব কাছাকাছি থাকায় ওই এলাকাটিকে নৌচলাচলের জন্য ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক বয়া স্থাপন করা হয়েছে।
ফলো ও মন্তব্য করতে ভিজিট করুন: businesstoday24.com