বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারা সরাসরি উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে যান। সেখানে প্রতিনিধি দলটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সার্বিক জীবনযাত্রা সম্পর্কে অবহিত হয়। মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফরকে কেন্দ্র করে উখিয়ার ৮ নম্বর ওয়েস্ট ক্যাম্পে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থী একত্রিত হয়ে নিজ দেশে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে শুরুতেই জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যক্রম খতিয়ে দেখে। এরপর তারা সম্প্রসারিত ৮-ডব্লিউ এবং ৬ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে বিক্ষোভকারী রোহিঙ্গারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকারের কথা তুলে ধরেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হতে হলে অবশ্যই পূর্ণ নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশ থেকে উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ উল্লাহ মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে প্রথম ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অপরাধীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা ও নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়ার আকুল আবেদন জানান তারা।
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেলে প্রতিনিধি দল শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়। বৈঠক শেষে আরআরআরসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রতিনিধি দলকে স্থানীয় জনগণের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে এখনো জীবন বাঁচাতে সীমিত পরিসরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে যা বাংলাদেশ মানবিক কারণে ফেরাতে পারছে না। আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দল স্বীকার করেছে যে, তারাও রোহিঙ্গাদের সাথে সরাসরি কথা বলে একই বার্তা পেয়েছেন এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন।










