নেপথ্যে আন্তর্জাতিক পাচারচক্র?
শিপিং ডেস্ক:
নাইজেরিয়ার লাগোস বন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কোকেনসহ ২২ জন ভারতীয় নাবিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘এমভি অরুণা হুলিয়া’ (MV Aruna Hulya) নামক একটি জাহাজ থেকে এই মাদক উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক পাচারের এক ভয়ংকর সিন্ডিকেটের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার দাবি করছে স্থানীয় প্রশাসন।
নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (NDLEA) জানিয়েছে, গত ২ জানুয়ারি জাহাজটি লাগোসের আপাপা টার্মিনালে পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর জাহাজের ৩ নম্বর হ্যাচের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩১.৫ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাঁচায় ২২ ভারতীয় নাবিক
মাদক উদ্ধারের পরপরই জাহাজের মাস্টার বা ক্যাপ্টেন শর্মা শশী ভূষণসহ ২২ জন ভারতীয় ক্রুকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে NDLEA হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়া সরকারের দাবি, এত বড় মাদকের চালান ক্রু সদস্যদের যোগসাজশ ছাড়া জাহাজে তোলা সম্ভব নয়।
নেপথ্যে কি ব্রাজিলের মাদকচক্র?
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, জাহাজটি ব্রাজিল থেকে চিনি নিয়ে নাইজেরিয়ায় এসেছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, ব্রাজিলের কোনো শক্তিশালী ড্রাগ কার্টেল এই চিনি পরিবহনের আড়ালে কোকেনের চালানটি ইউরোপ বা আফ্রিকার বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
কড়া হুঁশিয়ারি
নাইজেরিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “নাইজেরিয়ার জলসীমাকে মাদক পাচারের স্বর্গরাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দেশেরই হোক, কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” বর্তমানে এই ঘটনায় ইন্টারপোল ও আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় দূতাবাস এই বিষয়ে নজর রাখছে। তবে নাইজেরিয়ার আইন অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় এই ২২ নাবিকের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে।










