পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে আটককৃতদের কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলায় অভিযুক্ত মোট ৫৩ জনের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
যেভাবে আটক করা হয়:
টেকনাফ থানা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র লড়াই শুরু হলে প্রাণভয়ে একদল লোক নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৫৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ৪ জন নিরীহ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের সদস্য নায়েক ছরওয়ারুল মোস্তফা বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি:
গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি, আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) এবং নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত জনপদে পড়ছে:
আতঙ্কে সীমান্তবাসী: টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আহত বাংলাদেশি: রোববার হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মাইন বিস্ফোরণ: সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি নাগরিকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করেছে এবং যেকোনো ধরনের নতুন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।