Home কৃষি পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ, রামগড়ে নতুন সম্ভাবনার উঁকি

পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ, রামগড়ে নতুন সম্ভাবনার উঁকি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় পাহাড়ি মাটিতে প্রথমবারের মতো আলুবোখারা চাষে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছে রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের নিবিড় গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের সামগ্রিক কৃষিতে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

জানা গেছে, রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এমদাদুল হকের তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি অম্লীয় মাটিতে আলুবোখারা চাষের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। সমতল এলাকার তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং প্রতিকূল হওয়ায় শুরুতে এই ফলের চাষ উপযোগী করা গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।

তবে প্রতিকূলতা জয় করে বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণা, উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা পদ্ধতি প্রয়োগ এবং পার্বত্য অঞ্চলের উপযোগী সঠিক জাত নির্বাচনের মাধ্যমে গবেষকরা ধীরে ধীরে এই সফলতা নিশ্চিত করেন। বর্তমানে রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী বাগানের সারি সারি গাছে থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে উৎপাদিত মানসম্মত আলুবোখারা। গাছের এই চমৎকার ফলন ও সাফল্য দেখে স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের মাঝেও এখন বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষের জন্য ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত ফলমূল ও ফসলের পাশাপাশি নতুন, উচ্চমূল্যের এবং লাভজনক ফল চাষের সম্প্রসারণ ঘটানোর লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে এই কেন্দ্রটি। পাহাড়ি মাটিতে মূল্যবান ফল আলুবোখারা চাষ পুরোপুরি সফল হওয়ায় স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটি এখন একটি দারুণ সম্ভাবনাময় ও লাভজনক অর্থকরী ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই যুগান্তকারী সাফল্যের বিষয়ে রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এমদাদুল হক বলেন, পাহাড়ি রুক্ষ মাটিতে আলুবোখারা (বারি-১) চাষ করা এক সময় অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। তবে আমাদের বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণা ও ধারাবাহিক সঠিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশেষে এই সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। এখন পাহাড়ি এলাকার সাধারণ কৃষকরাও অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে এই ফল চাষে এগিয়ে আসছেন এবং আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে এই আলুবোখারা চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে স্থানীয় কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে এটি পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকার বিশাল অনাবাদি জমিতে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় ফল চাষের নতুন নতুন সম্ভাবনাও আরও অনেক বেশি বিস্তৃত হবে।

কৃষি বিষয়ক এমন নিত্যনতুন ও তথ্যবহুল খবরাখবর সবার আগে পেতে নিয়মিত businesstoday24.com ফলো করুন।