আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক সরকার পরিচালিত নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফলে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। গত শনি ও রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই জিতেছে দলটি।
নির্বাচনের প্রধান পরিসংখ্যান ও ফলাফল: ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনের (ইউইসি) আংশিক ফলাফল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান চিত্রটি নিম্নরূপ:
জাতিগত সংখ্যালঘু দল: ছয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু দল মোট ৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
আঞ্চলিক ফলাফল: ঘোষিত ১৫টি আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক আসনের মধ্যে ১৪টিই জিতেছে ইউএসডিপি।
প্রথম ধাপের আরও ৬টি টাউনশিপ বা এলাকার ফলাফল এখনও ঘোষণা করা বাকি।
প্রেক্ষাপট ও ভোটগ্রহণের হার: ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। যদিও জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রে ফেরার পথ হিসেবে দাবি করছেন, তবে আন্তর্জাতিক মহলে এটি ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে।
ভোটদানের হার: জান্তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে এই হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত উপস্থিতি সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক কম।
অনুপস্থিত বিরোধী দল: অং সান সু চি-র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি কারণ সামরিক সরকার দলটি ভেঙে দিয়েছে। সু চি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
পরবর্তী ধাপ: মাসব্যাপী চলমান এই নির্বাচনের আরও দুটি ধাপ আগামী ১১ জানুয়ারি এবং ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক: অধিকারকর্মী এবং পশ্চিমা কূটনীতিকরা এই নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি মূলত সামরিক শাসনকে একটি বেসামরিক মোড়ক দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও সামরিক বাহিনী ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ক্ষমতা দখল করেছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল।