কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। একদিকে দক্ষিণ কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাই-ভোল্টেজ প্রচার শুরু, অন্যদিকে প্রার্থীতালিকা ঘিরে শাসকদলের অন্দরেই তৈরি হওয়া বিক্ষোভ— সব মিলিয়ে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে পারদ চড়তে শুরু করেছে।
ভবানীপুরে মহারণ: লড়াইয়ের ময়দানে শুভেন্দু
২০২১ সালের নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পর আজ থেকেই নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতায় আজ থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ। শুভেন্দু এদিন দাবি করেন, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তন চায় এবং এই কেন্দ্র থেকেই তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভবানীপুরবাসীর আস্থা অটুট।
বিক্ষোভের আগুনে আমডাঙা ও ক্যানিং পূর্ব: মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯১টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসন্তোষের খবর আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব এলাকায় আজ দিনভর চলল বিক্ষোভ। আমডাঙায় বিদায়ী বিধায়ক বা পছন্দের নেতা টিকিট না পাওয়ায় অনুগামীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। একই ছবি দেখা গেছে ক্যানিং পূর্বেও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বহিরাগত নয়, ভূমিপুত্রকেই প্রার্থী করতে হবে। এই বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
এক নজরে নির্বাচনী পরিস্থিতি: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের ভোট হবে মাত্র দুই দফায়— ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। আর ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। হাতে সময় কম থাকায় কোনো দলই সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন দিল্লিতে বাকি প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করতে বৈঠকে ব্যস্ত, তখন বাংলায় তৃণমূলের অন্দরের এই বিক্ষোভ দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিক্ষোভ দ্রুত প্রশমিত করতে না পারলে ভোটের বাক্সে তার প্রভাব পড়তে পারে।