Home First Lead এমভি আবদুল্লাহর মুক্তিপণ: সোমালি জলদস্যুদের অপরাধে নতুন ‘পুঁজি’

এমভি আবদুল্লাহর মুক্তিপণ: সোমালি জলদস্যুদের অপরাধে নতুন ‘পুঁজি’

ছবি: এআই

স্কাল্ড ও আইএমবি-র সতর্কবার্তা: মুক্তিপণই জলদস্যুতার পালে হাওয়া দিল

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর মুক্তির বিনিময়ে জলদস্যুদের হাতে পৌঁছানো আনুমানিক ৫ মিলিয়ন ডলারের মুক্তিপণ ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সোমালি জলদস্যুদের কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছলই করেনি, বরং তাদের নতুন করে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনে চরমভাবে উৎসাহিত (Incentivized) করেছে।
লাভজনক ব্যবসার হাতছানি: স্কাল্ড-এর সতর্কবার্তা
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক বিমা প্রতিষ্ঠান স্কাল্ড (Skuld) তাদের ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের বিশেষ রিপোর্টে এমভি আবদুল্লাহর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালের এপ্রিলে এমভি আবদুল্লাহর মুক্তির জন্য প্রদান করা ৫ মিলিয়ন ডলার জলদস্যুতার লাভজনকতা আবারও প্রমাণ করেছে। এটি নতুন করে আক্রমণ চালানোর জন্য দস্যুদের প্রলুব্ধ করছে।”
স্কাল্ড-এর বিশ্লেষণ মতে, দীর্ঘ বিরতির পর এই পরিমাণ অর্থ জলদস্যু নেটওয়ার্কগুলোর জন্য ‘বীজ পুঁজি’ হিসেবে কাজ করছে।
‘সুযোগের জানালা’ ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম
ডেনমার্ক ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রিস্ক ইন্টেলিজেন্স (Risk Intelligence) তাদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহর মুক্তিপণ সোমালি দস্যুদের জন্য একটি ‘সুযোগের জানালা’ খুলে দিয়েছে। তাদের মতে:
  • এই অর্থ ব্যবহার করে দস্যুরা এখন আগের চেয়ে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে।
  • গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য হাইজ্যাক করা বড় নৌকা বা মাদারশিপের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
  • উচ্চপ্রযুক্তির জিপিএস এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম কেনায় এই অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ
আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো (IMB) তাদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, ভারত মহাসাগরে জলদস্যুতার যে গ্রাফ পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তার পেছনে মূল অনুঘটক হলো বড় মুক্তিপণের ‘আর্থিক প্রলোভন’।
একই সুর শোনা গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-নিরাপত্তা সংস্থা মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার – হর্ন অফ আফ্রিকা (MSCHOA)-এর কণ্ঠেও।
ংসংস্থাটি বলছে, মুক্তিপণ আদায়ের পর থেকে সোমালি উপকূল থেকে অনেক দূরে দস্যুদের তৎপরতা বাড়তে দেখা গেছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, আবদুল্লাহর ঘটনার পর দস্যুরা এখন অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে সাহসী হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নাবিকদের জীবন বাঁচাতে মুক্তিপণ প্রদান একটি মানবিক বাধ্যবাধকতা হলেও এটি আন্তর্জাতিক জলপথকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমভি আবদুল্লাহর মুক্তিপণ পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা নিয়ন্ত্রণে এখন আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর দ্বিগুণ টহল এবং নজরদারির প্রয়োজন পড়ছে।

ফলো করুন ও মন্তব্য করে আমাদের সাথে থাকুন: businesstoday24.com