Home ধর্ম ও জীবন মাত্র ১৫ মাসে কুরআন হিফজ! বিস্ময় বালক সোলাইমান

মাত্র ১৫ মাসে কুরআন হিফজ! বিস্ময় বালক সোলাইমান

পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয় শিশু সোলাইমান ইসলামকে। ছবি সংগৃহীত

ইচ্ছাশক্তি ও মেধার জয়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম নিজ বানাইল। এই গ্রামের অলিগলি এখন একটি শিশুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দারিদ্র্য আর বাবার শারীরিক অক্ষমতা যাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, সেই ১১ বছর বয়সী শিশু সোলাইমান ইসলাম মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এলাকায় এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এক অসাধ্য সাধনের গল্প: সাধারণত পবিত্র কোরআন হিফজ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সোলাইমান তার মেধা, একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই অসাধ্যকে সাধন করেছে।
স্থানীয় ‘জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার এই ছাত্র প্রমাণ করেছে যে, প্রতিকূলতা কখনোই স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না।
সোলাইমানের বাবা সাইফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ছেলের এই সাফল্য যেন এক টুকরো জান্নাতি সুখ বয়ে এনেছে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর অভাবের কারণে সব সময় চিন্তায় থাকতাম। কিন্তু আমার ছেলে আজ আমার মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি সবার কাছে ওর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া চাই।”
শিক্ষকদের চোখে সোলাইমান: মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, সোলাইমানের এই অর্জনে তারা গর্বিত।
তিনি বলেন, “সোলাইমান শুধু মেধাবীই নয়, সে অসম্ভব মনোযোগী। শিক্ষকদের প্রতিটি নির্দেশ সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। মাত্র ১৫ মাসে পুরো কোরআন আয়ত্ত করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়; এটি তার কঠোর অধ্যবসায়েরই ফল।”
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: অভিনন্দন ও মুগ্ধতা: সোলাইমানের এই সাফল্যে স্থানীয় আলেম, সুধীসমাজ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এলাকার মানুষের মন্তব্যে উঠে এসেছে মুগ্ধতার প্রতিচ্ছবি:

আব্দুর রহিম (স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী): “আমরা অভিভূত! ছোট একটা ছেলে এত অল্প সময়ে কোরআন হাফেজ হয়েছে শুনে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হলো, আমাদের এলাকার শিশুদের জন্য সে এক বড় অনুপ্রেরণা।”

মোসা. আমেনা বেগম (গৃহিণী): “বাবার কষ্ট বুঝে যে সন্তান এভাবে নিজেকে তৈরি করে, সেই তো আসল হিরো। সোলাইমানের এই খবর শুনে আমাদের খুব ভালো লাগছে। দোয়া করি সে অনেক বড় মানুষ হোক।”

ক্বারী মো. ইউসুফ (স্থানীয় আলেম): “১৫ মাসে হিফজ শেষ করা আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া সম্ভব নয়। সোলাইমানের একাগ্রতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, চেষ্টা থাকলে সব সম্ভব। এটি নান্দাইলবাসীর জন্য গর্বের।”

ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা: দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই খুদে হাফেজ এখন নান্দাইলের মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সোলাইমানের এই পথচলা কেবল তার নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের সেইসব শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা অভাব বা শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে থমকে যায়।
নান্দাইলের আকাশে এখন সোলাইমানের সাফল্যের সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। গ্রামবাসী আশা করছেন, সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই মেধাবী শিশু আগামীতে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।