Home সারাদেশ খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে মেয়ের চা-রুটি: নির্মমতার মাঝে ভালোবাসার জয়

খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে মেয়ের চা-রুটি: নির্মমতার মাঝে ভালোবাসার জয়

খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে তুবা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, বরিশাল:  চারপাশে শত শত উৎসুক চোখের ভিড়, বাতাসে আছড়ে পড়ছে চুরির অপবাদ আর চাবুকের মতো ধেয়ে আসা কটূক্তি। খুঁটির সঙ্গে শক্ত দড়িতে বাঁধা অসহায় এক পিতা, যাঁর মাথা নুইয়ে গেছে লজ্জা আর গ্লানিতে। ঠিক সেই মুহূর্তে জমাট বাঁধা নির্মমতাকে এক লহমায় ভেঙে দিল ছোট্ট দুটি পা। ভিড় ঠেলে বাবার সামনে এসে দাঁড়াল ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যা তুবা।
চোখভর্তি জল আর বুকফাটা আকুতি নিয়ে সে উপস্থিত জনতার কাছে মিনতি করল বাবাকে আর না মারার জন্য। কাঁপা কাঁপা হাতে চায়ে ভিজিয়ে পাউরুটির টুকরো তুলে দিল বাবার মুখে। চরম সামাজিক নিষ্ঠুরতার বুকে দাঁড়িয়ে সন্তানের এই নিঃস্বার্থ মমতার দৃশ্য শুধু উপস্থিত কাউকেই স্তব্ধ করেনি, নাড়া দিয়েছে গোটা দেশের মানুষকে।
বরিশালের উজিরপুর বাজারের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সম্প্রতি ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রায়হানুল হক অনিক নামের ওই ব্যক্তি যখন অপবাদ আর শাস্তির বোঝায় ন্যুব্জ, তখন তাঁর ছোট্ট মেয়ে তুবা সমাজকে দেখিয়ে দিল পিতা অপরাধী কিংবা নির্দোষ যাই হোক না কেন, সন্তানের কাছে সে শুধুই বাবা। শত মানুষের তামাশার মাঝে সন্তানের সেই পরম মমতায় এক টুকরো রুটি মুখে তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি মুহূর্তেই দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই দৃশ্যপট বদলে যায় এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ মানবিকতার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে। বিষয়টি নজরে আসার পরই উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির দিকে পরম যত্নে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার আন্তরিক হস্তক্ষেপে অনিককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাঁকে তিন মাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যাতে সুস্থ হয়ে তিনি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন।
প্রশাসনের মানবিক এই উদ্যোগ কেবল অনিকের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পরিবারটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ছোট্ট তুবার যাতে পড়াশোনা কোনোভাবেই থমকে না যায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মায়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর নামে একটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) গঠন এবং তাঁকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে পুনর্বাসনের পূর্ণ রূপরেখা তৈরি করেছে প্রশাসন। যে নিষ্ঠুর খুঁটিতে একদিন একটি পরিবার ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, ছোট্ট এক শিশুর খাঁটি ভালোবাসা আর প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপে আজ সেখানেই রচিত হলো আশার এক নতুন সূচনা।
এমন হৃদয়স্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ নিয়মিত পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং এই বিষয়ে আপনার অনুভূতি জানাতে নিচে মন্তব্য করুন।