বন্ধ ১৭১ কারখানা, বেকার লক্ষাধিক শ্রমিক
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: গ্যাস সরবরাহে তীব্র ঘাটতির কারণে অচল হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল। গত ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস পাওয়া গেলেও সম্প্রতি জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় সরবরাহ একবারে শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে ছোট-বড় ১৭১টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তার কর্মসংস্থানে।
রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বিদেশি অর্ডার বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে। শিল্প মালিকদের দাবি, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে।
শিল্প খাতের ভয়াবহ ক্ষতি ও অচলাবস্থা
যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১৩.৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও তা নেমে এসেছিল মাত্র ৩ মিলিয়নে এবং পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এসএম স্পিনিংয়ে প্রতিদিন ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন থমকে যাওয়ায় দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা ($১,২১,৬০০)।
হবিগঞ্জের অর্ধশতাধিক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানসহ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট চালিত কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও উৎপাদন উভয় দিক থেকেই স্তব্ধ হয়ে গেছে।
সরাসরি প্রতিক্রিয়া
আবুল হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল), যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: “আমাদের ৬টি কারখানার মধ্যে টায়ার ও পাওয়ার প্ল্যান্ট ছাড়া বাকি চারটিই শতভাগ রপ্তানিমুখী। ১২ হাজার মানুষ এখানে কাজ করেন। দীর্ঘদিন কম সরবরাহের পর হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এতে উৎপাদন চালু রাখা একেবারেই অসম্ভব।”
আবদুল মাজেদ, মহাব্যবস্থাপক, স্কয়ার ডেনিম: “আমাদের দৈনিক ২০ মেগাওয়াট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও হঠাৎ সরবরাহ শূন্য হয়ে গেছে। প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। বায়ারদের অর্ডার নেওয়া আছে, কিন্তু সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হবে এবং বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।”
শেফালী, ভুক্তভোগী নারী শ্রমিক: “আমরা প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাই। কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের কাজ নেই, আয়ও নেই। কত দিন এভাবে চলবে জানি না। দ্রুত গ্যাস না এলে আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকের পরিবার সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্প কর্মকর্তা: “আমাদের গ্যাস বন্ধ কিন্তু একই এলাকার কিছু কোম্পানিতে এখনো সরবরাহ আছে। এই বৈষম্য কেন? গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা হলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি থাকা উচিত।”
মো. রুহুল করিম চৌধুরী, উপমহাব্যবস্থাপক, জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড: “গ্যাস সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কারণেই শিল্পকারখানায় জোগান কমাতে হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”










