Home শিক্ষা মৃত স্ত্রীর শোকাতুর স্বামীর আকুতিও টলাতে পারেনি পাষাণ কর্মকর্তাকে: ঘুষের টাকাসহ আটক...

মৃত স্ত্রীর শোকাতুর স্বামীর আকুতিও টলাতে পারেনি পাষাণ কর্মকর্তাকে: ঘুষের টাকাসহ আটক শিক্ষা কর্মকর্তা

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, যশোর: যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের দুর্নীতি ও অমানবিকতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল ছাড় করাতে একজন শোকাতুর স্কুলশিক্ষকের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এই “শিক্ষার অভিভাবকের” মুখোশ উন্মোচিত হয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন নির্লজ্জ আচরণে জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শোকাতুর স্বামীর পা ধরে আকুতি করার পরও মন গলেনি এই কর্মকর্তার, উল্টো শাস্তিস্বরূপ তাকে দূরবর্তী স্কুলে বদলি করে দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্যে স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: যখন রক্ষকই ভক্ষক
ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তারের মৃত্যুর পর তার পাওনা বুঝে পেতে আবেদন করেছিলেন স্বামী নুরুনবী। কিন্তু শোকসন্তপ্ত এই শিক্ষকের শেষ সম্বলটুকু হাতিয়ে নিতে জাল পেতে বসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।
দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রেখে মানসিক নির্যাতনের পর দাবি করেন বড় অঙ্কের ঘুষ। অবশেষে দুদকের জালে ধরা পড়ে তার এই পৈশাচিক লালসা।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যশোরের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের টেবিলে এখন একটাই দাবি—“এমন পাষাণ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আবদুল হালিম (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক): > “শিক্ষা বিভাগে এমন মানুষ আছে ভাবতেই লজ্জা লাগে। যে কর্মকর্তা একজন মৃত সহকর্মীর পেনশনের টাকা নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলতে পারেন, তিনি মানুষ নন, পিশাচ। আমরা এর কঠোরতম শাস্তি দাবি করছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।”
রহিমা আক্তার (গৃহিণী): > “একজন স্বামী তার মৃত স্ত্রীর হকের জন্য অফিসে অফিসে ঘুরবেন, আর তাকে হয়রানি করা হবে—এটা কোন ধরনের সমাজ? কর্মকর্তার নিজের কি পরিবার নেই? এমন ন্যাক্কারজনক সংবাদে আমরা বাকরুদ্ধ।”
সুমন রহমান (বেসরকারি চাকুরিজীবী): > “দুদককে ধন্যবাদ এই হায়েনাকে ধরার জন্য। তবে শুধু আটক নয়, এই দুর্নীতির শেকড় কতদূর তা খুঁজে বের করা দরকার। অফিসের আর কেউ এই সিন্ডিকেটে জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা উচিত।”
তীব্র সমালোচনা ও বিশ্লেষণ
শিক্ষা খাতে নিয়োজিত একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। মৃত ব্যক্তির পাওনা নিয়ে বাণিজ্য করা কেবল আইনত দণ্ডনীয় নয়, এটি চরমতম ধর্মীয় ও মানবিক অবমাননা।
ভুক্তভোগীকে শাস্তিমূলক বদলি করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, দাপ্তরিক ক্ষমতাকে এই কর্মকর্তা নিজের পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট অন্যদের নাম এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোকাতুর নুরুনবীর চোখের জলের মূল্য যেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কড়ায়-গণ্ডায় চুকিয়ে দেন। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি—কোনো প্রশাসনিক তদবির যেন এই ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।