এক নদীর ধারে এক বিশাল জামগাছ ছিল, যেখানে এক বানর বাস করত। সেই নদীর এক কুমিরের সাথে তার খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেল। বানর প্রতিদিন মিষ্টি জাম পেড়ে কুমিরকে খেতে দিত। কুমির সেই জাম তার স্ত্রীর জন্যও নিয়ে যেত।
মিষ্টি জাম খেয়ে কুমিরের স্ত্রীর মনে এক কুটিল বুদ্ধি চাপল। সে ভাবল, “যে বানর প্রতিদিন এত মিষ্টি ফল খায়, তার কলিজা না জানি কত সুস্বাদু হবে!” সে কুমিরকে ধরল বানরের কলিজা এনে দেওয়ার জন্য। কুমির অনিচ্ছাসত্ত্বেও বন্ধুকে দাওয়াতের নাম করে পিঠে চড়িয়ে নদীর মাঝপথে নিয়ে গেল এবং সব সত্যি খুলে বলল।
বিপদ বুঝে বানর একটুও ঘাবড়াল না। সে হেসেই বলল, “ওহ বন্ধু! এটা আগে বলবে তো? আমি তো আমার কলিজাটা গাছের ডালে রেখে এসেছি। চলো ফিরে গিয়ে ওটা নিয়ে আসি।” বোকা কুমির বানরের কথা বিশ্বাস করে আবার পাড়ের দিকে ফিরে এল। পাড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথেই বানর এক লাফে গাছে উঠে গেল এবং বলল, “রে বোকা কুমির! কলিজা কি কখনো দেহের বাইরে থাকে? দয়া দেখালে তার সুযোগ নিতে নেই।” কুমির লজ্জিত হয়ে ফিরে গেল এবং বানর নিজের বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচাল।