বন্ধুত্বের শুরু ও প্রেক্ষাপট: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টাইনের পরিচয় হয় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তাদের এই ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘ সময় বজায় ছিল।
এপস্টাইন আগে থেকেই যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন, কিন্তু প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার সাথে মেলামেশা বন্ধ করেননি। এমনকি ২০০৮ সালে এপস্টাইন প্রথমবার যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও প্রিন্স তার বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন।
ভার্জিনিয়া জুফ্রের অভিযোগ
এই বিতর্কের মূলে রয়েছেন ভার্জিনিয়া জুফ্রে। তিনি অভিযোগ করেন, যখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর ছিল, তখন এপস্টাইন তাকে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের অংশ হিসেবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন।
জুফ্রের দাবি অনুযায়ী, লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে অন্তত তিনবার তাকে প্রিন্সের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিবিসি নিউজনাইট ইন্টারভিউ: একটি বিপর্যয়
২০১৯ সালে এই অভিযোগের বিষয়ে সাফাই দিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রু বিবিসিকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারটি তার জন্য হিতে বিপরীত হয়। তিনি ভিকটিমের প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রকাশ করেননি এবং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিগুলো জনসাধারণের কাছে হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়। বিশেষ করে একটি ক্লাবে নাচার প্রসঙ্গে তার “ঘাম না হওয়ার অক্ষমতা” সংক্রান্ত যুক্তিটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
আইনি লড়াই ও রফা
ভার্জিনিয়া জুফ্রে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রিন্সের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তবে ২০২২ সালে মামলাটি আদালতের বাইরে একটি বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে রফা বা সেটেলমেন্ট করা হয়।
যদিও এই রফাতে প্রিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার করেননি, কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান তার ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রাজকীয় উপাধি ও মর্যাদা হারানো
এই কেলেঙ্কারির জেরে রাজপরিবারের সম্মান রক্ষার্থে রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয় কঠোর পদক্ষেপ নেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সমস্ত সামরিক সম্মাননা এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা (Royal Patronage) কেড়ে নেওয়া হয়। তাকে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ (HRH) উপাধি ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।
বর্তমানে তিনি রাজপরিবারের কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই এবং জনসাধারণের সামনে তার উপস্থিতি প্রায় নিষিদ্ধ।