Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্প বনাম ব্যাংক: ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে!

ট্রাম্প বনাম ব্যাংক: ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে!

আন্তর্জািতিক ডেস্ক:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারের ওপর ১০ শতাংশ সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের যে পরিকল্পনা করেছেন, তার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো। জেপি মরগান চেজ (JPMorgan Chase), সিটিগ্রুপ (Citigroup) এবং ওয়েলস ফার্গো (Wells Fargo)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, এই পদক্ষেপটি হিতে বিপরীত হতে পারে।
ব্যাংকগুলোর প্রধান আপত্তিসমূহ
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার ফলে তারা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা সংকুচিত করতে বাধ্য হবে:
ঋণ প্রাপ্তিতে বাধা: জেপি মরগানের সিএফও জেরেমি বারনাম সতর্ক করেছেন যে, সুদের হার কমানোর বদলে তারা ঋণের সরবরাহ কমিয়ে দেবেন। এর ফলে বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ বা যারা আর্থিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে আছেন, তারা আর ক্রেডিট কার্ড পাবেন না।
অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি: সিটিগ্রুপের সিএফও মার্ক ম্যাসন মনে করেন, ঋণের সুবিধা কমে গেলে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা বা খরচ করার ক্ষমতা কমে যাবে, যা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দেবে।
ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন: বর্তমানে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদের আয় দিয়ে জালিয়াতি (Fraud), খেলাপি ঋণ এবং গ্রাহকদের দেওয়া রিওয়ার্ড প্রোগ্রামগুলোর খরচ মেটায়। সুদের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনলে এই খরচগুলো সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে আমেরিকায় ক্রেডিট কার্ডের গড় সুদের হার (APR) প্রায় ১৯.৬ শতাংশ, যা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ। অনেক ক্ষেত্রে এই হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ট্রাম্প এই হারকে “জনসাধারণকে ঠকানো” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এক বছরের জন্য এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর করতে চান।
বিপরীত চিত্র
ব্যাংকগুলো যখন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে, তখন ‘বিল্ট’ (Bilt) নামক একটি নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। তারা সম্প্রতি এমন তিনটি কার্ড চালু করেছে যেখানে প্রথম বছরের জন্য সুদের হার ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
বড় ব্যাংকগুলোর দাবি, এই নীতিমালা কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে এবং ক্রেডিট লিমিট কমিয়ে দেওয়া হবে। এতে করে সাধারণ আমেরিকানরা যারা জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করেন, তারা বিপাকে পড়তে পারেন।