Home First Lead প্রতিহিংসা নয়, ঐক্য ও জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ার ডাক

প্রতিহিংসা নয়, ঐক্য ও জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ার ডাক

বেগম জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ। বক্তারা বলেছেন, দেশ গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত উদারতা, দেশপ্রেম এবং প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির পথেই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এক নাগরিক শোকসভায় দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম জিয়ার দেওয়া ঐক্যের ডাককে আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনের মূলমন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন তারা।

বিকেল বেলা আড়াইটায় সপরিবারে শোকসভায় উপস্থিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর কোরআন তিলাওয়াত ও শোকগাথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, “বেগম জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিহিংসার মামলায় দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও তিনি বলেছিলেন—ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসায় শান্তির সমাজ গড়তে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ করব তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধিতে ভূষিত করতে।”

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “বেগম জিয়ার বিচার ছিল অত্যন্ত জঘন্য ও সাজানো। উনাকে যখন বিদেশে পাঠানোর জন্য অনুনয় করেছি, অনেকে ভয়ে সাহস পাননি। বাংলাদেশকে যদি ভালো থাকতে হয়, তবে বেগম জিয়ার আদর্শকে অন্তরে ধারণ করতে হবে।”

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বেগম জিয়ার তিনটি অমর উক্তি স্মরণ করেন— “বিদেশের মাটিতে বন্ধু আছে, প্রভু নেই”, “আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা”, এবং “দেশই আমার শেষ ঠিকানা”। তিনি বলেন, এই মন্ত্রগুলোই দেশ রক্ষার মূল শক্তি।

 দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “বছরের পর বছর নিগৃহীত হওয়ার পরও ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তিনি যে উদারতার বাণী দিয়েছেন, তা বিস্ময়কর। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার তাঁর সেই আহ্বান আগামীর নেতৃত্বকে ধারণ করতে হবে।”

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর তাঁর অসামান্য পরিমিতিবোধ ও আত্মমর্যাদার প্রশংসা করে বলেন, “তিনি কখনও প্রকাশ্যে নিজের ব্যক্তিগত বেদনার কথা বলে নিন্দা ছড়াননি, যা বর্তমানের অসহিষ্ণু রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।”

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সংগ্রামের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে। এই উত্তরাধিকার রক্ষা করা যেমন গর্বের, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জের।”

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বেগম জিয়ার বড় গুণ ছিল তিনি শুনতেন এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতেন।”

শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ফাহাম আবদুস সালাম, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, মহিউদ্দিন আহমদ, ড. এস এম এ ফায়েজসহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই বিশাল শোকসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা বলয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।