Home আন্তর্জাতিক ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তেহরানের হুঁশিয়ারি

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তেহরানের হুঁশিয়ারি

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনপীড়নে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের অশান্তিতে এখন পর্যন্ত ১০,৬০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি ইরানের অভ্যন্তরে তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই করে এই সংখ্যা জানিয়েছে।

তবে ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত ভয়াবহতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে নিরাপত্তা বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে প্রবাসে থাকা ইরানি অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন।

ট্রাম্পের সমর্থন ও সামরিক প্রস্তুতির গুঞ্জন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন: “ইরান সম্ভবত আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতার কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!”

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দল সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কর্তৃক সরাসরি সামরিক হামলার মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের উপস্থিতি এই পরিকল্পনায় নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করেছে।

ইরানের পাল্টাহুশিয়ারি

মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন:”ইরানে কোনো হামলা হলে এই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কেন্দ্র এবং জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা কেবল হামলার পর প্রতিক্রিয় দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না, বরং যেকোনো হুমকির লক্ষণ দেখলেই আগে ব্যবস্থা নেব।”

কালিবাফের এই বক্তৃতার সময় পার্লামেন্ট সদস্যরা “আমেরিকা নিপাত যাক” বলে স্লোগান দেন। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ভ্যাটিকান সিটি থেকে পোপ লিও চতুর্দশ ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানে চলমান উত্তেজনা অনেক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমি প্রার্থনা করি যাতে সমাজের মঙ্গলের জন্য ধৈর্য ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়।”

দমে নেই বিক্ষোভকারীরা

কঠোর নজরদারি এবং ড্রোনের মাধ্যমে তদারকি সত্ত্বেও রোববার তেহরান এবং ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের পুনাকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে এবং ধাতব বস্তুতে শব্দ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করে এসব ভিডিও দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।