Home আন্তর্জাতিক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিপিং কোম্পানি

দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিপিং কোম্পানি

হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ জাহাজ

শিপিং ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কায় চরম সংকটে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোর জ্বালানি খরচ এবং যুদ্ধকালীন বীমা প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব কোম্পানি এখন ব্যবস্থাপনা সংকটের মুখে রয়েছে।
পিপল পাওয়ার পার্টির প্রতিনিধি জো সেউং-হওয়ানের কার্যালয়ে কোরিয়া শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসএ) জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে ২৬টি কোরিয়ান জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টি জাহাজ আটটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিপিং কোম্পানির, যাদের বার্ষিক বিক্রয় ১০০ বিলিয়ন কোরিয়ান ওন-এর কম। কেএসএ-র হিসেব মতে, অপারেশনাল জটিলতা, জ্বালানি খরচ, যুদ্ধ বীমা এবং ক্রুদের ঝুঁকি ভাতাসহ এই আটটি কোম্পানি প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে ৫৮০ মিলিয়ন ওন লোকসান গুনছে। সব মিলিয়ে ১৭টি শিপিং কোম্পানির দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ২.১ বিলিয়ন ওন। এই সংঘাত মে মাসের শেষ পর্যন্ত চললে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ওন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বীমা প্রিমিয়াম। আন্তর্জাতিক বাজারে বাঙ্কার ফুয়েলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৮২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলো নোঙর করে থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হচ্ছে, যার ফলে কার্যত সাগরে দামী জ্বালানি ঢালতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের যুদ্ধকালীন বীমা হার জাহাজের মূল্যের ৩-৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ছিল মাত্র ০.১২৫-০.২ শতাংশ। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের (VLCC) বীমা প্রিমিয়াম ৮ থেকে ১২ গুণ বেড়ে ২-৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এই অতিরিক্ত খরচ ‘ইমার্জেন্সি ফুয়েল সারচার্জ’ হিসেবে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারলেও, ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলোর সেই দর কষাকষির ক্ষমতা নেই। ক্লায়েন্ট হারানোর ভয়ে তারা নিজেরাই এই বিশাল ব্যয় বহন করছে। আর্থিক তারল্য সংকটে থাকা এই ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি দেউলিয়া হওয়ার সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিপিং শিল্প থেকে ১৫ বিলিয়ন ওন সহায়তার আবেদন করা হলেও সম্পূরক বাজেটে মাত্র ১.৪ বিলিয়ন ওন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাকে সমুদ্রের মাঝে এক ফোঁটা শিশিরের সাথে তুলনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে এসব প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের পতনের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন