মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: রাজনীতি কি কেবলই ক্ষমতার দাবার ঘুঁটি, নাকি তার চেয়েও বড় কিছু? ইতিহাসের পাতায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে, ত্যাগ আর সংগ্রামের সার্থকতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন দলের সর্বোচ্চ অভিভাবক তার নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেন।
গতকাল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঠিক তেমনই এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হলো।
তারেক রহমান যখন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সফল কাণ্ডারি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেখানে রাজনীতি ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল এক গভীর আত্মিক টান।
এই আলিঙ্গন কেবল দুজন ব্যক্তির মিলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ এক দশকের রাজপথের লড়াই, জেল-জুলুম আর ত্যাগের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি।
রাজপথের লড়াকু এক নাম: মোশাররফ হোসেন দীপ্তি
চট্টগ্রামের রাজনীতির আকাশ যখনই উত্তাল হয়েছে, কাজীর দেউড়ি থেকে নাসিমন ভবন যখন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছে—সেখানে একটি মুখ সব সময় উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো দৃশ্যমান থেকেছে। তিনি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।
শূন্য থেকে লড়াই শুরু করে নিজেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই নেতা। তার প্রতিটি নির্দেশনায় কর্মীরা খুঁজে পেত অদম্য সাহসের রসদ।
কারাগার যার দ্বিতীয় আবাস
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক রোষানল দীপ্তিকে দমাতে পারেনি। অসংখ্য মিথ্যা মামলা আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তারের সেই অন্ধকার অধ্যায়ও তার মনোবল ভাঙতে পারেনি।
কারাগারের লোহার শিকল যার কণ্ঠরোধ করতে পারেনি, প্রতিবার মুক্তি পেয়ে তিনি আরও দ্বিগুণ তেজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।
মানবিকতার দীপ্তিতে উজ্জ্বল এক হৃদয়
রাজনীতির কঠিন ময়দানের বাইরে দীপ্তিকে চেনা যায় এক মানবিক মানুষ হিসেবে। করোনাকালীন দুর্যোগে যখন মানুষ দিশেহারা, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ হাতে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের বিচার-আচার আর সামাজিক প্রয়োজনে তার নিরলস অংশগ্রহণ তাকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং প্রকৃত ‘জননেতা’ হিসেবে আসীন করেছে।
গুলশানের সেই বিকেল: যখন ভালোবাসা হলো রাজনীতির শক্তি
১৫ জানুয়ারির সেই বিশেষ ক্ষণে চট্টগ্রামের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চট্টগ্রামের বন্দরনগরীর হালচাল শোনেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলছিলেন, “দলের প্রধান যখন নিজের মানুষকে এভাবে আগলে রাখেন, তখন সব দুঃখ-কষ্ট নিমেষেই মুছে যায়।”
এই আলিঙ্গন প্রমাণ করে, রাজনীতি মানে শুধু মিছিল-মিটিং নয়; রাজনীতি মানে বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক অটুট বন্ধন।
আগামীর ধ্রুবতারা
মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বিশ্বাস করেন, “রাজনীতি মানে মানুষের মুক্তি এবং অধিকারের লড়াই।” আজ চট্টগ্রামের যুব সমাজের কাছে তিনি এক আপসহীন সেনাপতি। রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে যিনি আগলে রেখেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির মশাল।
নেতা ও কর্মীর এই যে মেলবন্ধন, এটাই কি তবে আগামীর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি? গুলশানের সেই দুপুর অন্তত সেই বার্তাই দিয়ে গেল—যেখানে নেতার ভালোবাসা আর কর্মীর নিষ্ঠা একবিন্দুতে মিলে মিশে একাকার।