মালয়েশিয়ার ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পোঙ্গল বা নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হলেও, মেলাকার প্রাচীন ‘চিট্টি’ বা ‘চেট্টি মেলাকা’ সম্প্রদায়ের উদযাপন পদ্ধতি একেবারেই স্বতন্ত্র। বহু শতাব্দীর প্রাচীন এই ভারতীয়-পেরানাকান সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য মেনে এক ভিন্নধর্মী আচার পালন করে, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকে নাসি লেমাক এবং বিশেষ আমিষ পদ।
চেট্টি মেলাকা সম্প্রদায়ের সম্পাদক টি. সিতাম্বরম পিল্লাই জানান, মূলধারার ভারতীয়দের মতো তারা বাড়িতে আলাদাভাবে পোঙ্গল রান্না করেন না। পরিবর্তে, মেলাকার শ্রী কৈলাসা নাথার কোভিলে মন্দিরের ট্রাস্টির তত্ত্বাবধানে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য একটিই পোঙ্গল প্রস্তুত করা হয়।
পূর্বপুরুষদের স্মরণে ‘পার্চু পোঙ্গল’
মূল উৎসবের একদিন আগে পালিত হয় ‘পার্চু পোঙ্গল’। এটি মূলত পূর্বপুরুষদের আত্মার উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি অনুষ্ঠান। সিতাম্বরম জানান, এই দিনে প্রায় ১৫ রকমের পদ কলার পাতায় সাজিয়ে দেওয়া হয়। এই পদের মধ্যে মাছের স্যুপ (পিন্ডাং ইকান), ডিম ও মাছের সাম্বল, খাসির মাংস এবং ভাজা চিংড়ি উল্লেখযোগ্য।
সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, অর্ঘ্য হিসেবে এখানে ‘নাসি লেমাক’ পরিবেশন করা হয়, যা চিট্টিদের সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের বহিঃপ্রকাশ।
আচারের নিয়ম অনুযায়ী, কলার পাতার সংখ্যা অবশ্যই ১ থেকে ৭-এর মধ্যে বিজোড় হতে হয়। প্রার্থনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাবার চেখে দেখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সিতাম্বরম রসিকতা করে বলেন, “খাবারে লবণ বা মশলা ঠিক হলো কি না, তা আমরা জানতে পারি কেবল প্রার্থনা শেষে সবাই মিলে যখন একসাথে খেতে বসি তখন।”
বিচিত্র রীতিনীতি
চিট্টিরা ‘ভোগী’ উৎসব পালন করে না, যেখানে পুরনো জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলে নতুনত্বকে বরণ করা হয়। তাদের গৃহসজ্জাতেও রয়েছে ভিন্নতা। সাধারণ ভারতীয়রা দরজায় ৫ থেকে ৭টি আম পাতা ঝোলালেও, চিট্টিরা দরজার মাপ অনুযায়ী ২৭ বা ২৯টি পর্যন্ত পাতা ব্যবহার করে।
কানি পোঙ্গল ও অবিবাহিত তরুণী
উৎসবের সমাপনী দিন তথা ‘কানি পোঙ্গল’ উৎসর্গ করা হয় অবিবাহিত তরুণীদের। তাদের ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনের সুখ ও যোগ্য জীবনসঙ্গী লাভের কামনায় এই আচার পালিত হয়। এই দিনে তরুণীরা নিজেরাই পোঙ্গল রান্না করে শ্রী মুথু মারিয়াম্মান মন্দিরে নিবেদন করে।
প্রাচীন এই রীতিনীতিগুলো আজও মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে টিকে আছে।