Home সারাদেশ বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে আপন চাচাতো দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—লক্ষ্মীপুর গ্রামের জামিল উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৩) এবং একই গ্রামের মো. মোফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছেলে সুমন মোল্লা (৩৫)। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামে ইয়াছিন ও সুমনের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও চরম উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হামলাকারীরা ইয়াছিন আলী ও সুমন মোল্লাকে লক্ষ্য করে ধারালো চাকু ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জেরে আহত করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজনেরই গলা ও পেটে মারাত্মক জখম হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইয়াছিন আলীর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে স্থানীয়রা গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুমন মোল্লাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রাহাত মন্ডল (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে লক্ষ্মীপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।