Home চট্টগ্রাম বেগম জিয়ার চট্টগ্রাম সফর এবং একজন গোলাম আকবর খোন্দকার

বেগম জিয়ার চট্টগ্রাম সফর এবং একজন গোলাম আকবর খোন্দকার

 ইতিহাসের এক হারানো অধ্যায়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সময়টা ১৯৮২ সালের শেষভাগ। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে তখন পালাবদলের মেঘ। সেই উত্তাল সময়ে রাজনীতির ময়দানে প্রথম কদম রাখলেন এক মূর্তিমতি সাহস—বিএনপি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এক সুদীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ যাত্রার সূচনা হয়েছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা আছে এক নিভৃতচারী নেতার নাম, যিনি কেবল রাজপথের সহযোদ্ধা নন, হয়েছিলেন নেত্রীর সেই যাত্রার অতন্দ্র প্রহরী ও সারথি। তিনি সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার।
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম: প্রথম সেই যাত্রা: কক্সবাজারের জনসভা শেষ করে যখন চট্টগ্রামে ফেরার পালা, তখন নিরাপত্তা আর আস্থার এক অদ্ভুত সম্মিলন ঘটল। কোনো প্রটোকল বা ভাড়া করা বিলাসিতা নয়, নেত্রী চড়ে বসলেন তার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যক্তিগত গাড়িতে। স্টিয়ারিং হাতে স্বয়ং গোলাম আকবর খোন্দকার।
পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে গাড়িটি যখন চট্টগ্রামের দিকে ছুটছিল, তখন সেই চাকায় ঘুরছিল এক আগামীর ইতিহাস। দীর্ঘ পথ নিজে ড্রাইভ করে নেত্রীকে চট্টগ্রামে পৌঁছে দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আজো দলের নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে ফেরে।
আস্থার এক চিরস্থায়ী নাম: সেই দিনের সেই সফর কেবল একবারের জন্য ছিল না। এরপর থেকে বেগম খালেদা জিয়া যখনই চট্টগ্রামে পা রেখেছেন, তা আকাশপথেই হোক কিংবা সড়কপথে, পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর গুরুদায়িত্বটি অলিখিতভাবেই অর্পিত হতো গোলাম আকবর খোন্দকারের ওপর। নিজের গাড়ি আর নিজের ড্রাইভ করা—এটি যেন হয়ে উঠেছিল এক পরম মমত্ব আর অটুট আনুগত্যের প্রতীক।
আলোকচিত্রের গহীনে: উন্মোচিত হওয়া এই সাদাকালো (বা সেপিয়া টোনের) ছবিটি সেই সময়েরই এক জীবন্ত সাক্ষী। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের মাঝে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে গাড়ি থেকে নামছেন বা উঠছেন দেশনেত্রী। আর পাশেই সজাগ দৃষ্টিতে রয়েছেন জননেতা গোলাম আকবর খোন্দকার।
ছবিটি কেবল দুইজন রাজনীতিবিদের নয়, বরং এটি একজন নেত্রীর প্রতি তার একনিষ্ঠ কর্মীর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি। চশমা জোড়া আর শান্ত চাহনি যেন বলছে, “নেত্রী, আপনার এই কণ্টকাকীর্ণ পথে আমরা আছি অতন্দ্র প্রহরী হয়ে।”

আজকের ঝলমলে রাজনীতির ভিড়ে এমন ত্যাগের ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার গল্পগুলো কিছুটা ম্লান মনে হতে পারে, কিন্তু ১৯৮২ সালের সেই দিনগুলো ছিল অনেক বেশি আন্তরিক।

গোলাম আকবর খোন্দকারের সেই সারথি হওয়ার গল্পটি কেবল রাজনীতির নয়, বরং এটি ছিল এক গভীর আদর্শিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। এই ছবি আর এই স্মৃতিগুলো বেঁচে থাকবে যতোদিন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস চর্চিত হবে।