আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়েটলেট টাউনশিপ, সাগাইং: মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাগাইং অঞ্চলের ওয়েটলেট টাউনশিপে আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে। কোনো প্ররোচনা ছাড়াই করা এই অতর্কিত হামলায় এক শিশু এবং তিন নারীসহ অন্তত ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
‘ওয়েটলেট ইনফরমেশনাল নেটওয়ার্ক’ (Wetlet Informational Network)-এর তথ্যমতে, ওই দিন সকাল ৯টা ৪৭ মিনিট থেকে ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ওয়েটলেটের পাউক কান স্টেশন গ্রাম এবং ইয়ে থাউক কান গ্রাম লক্ষ্য করে তিনটি ৩০০ পাউন্ডের শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এই হামলায় পাউক কান গ্রামে এক শিশু এবং তিনজন নারী প্রাণ হারান। এছাড়া ইয়ে থাউক কান গ্রামে একজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। জান্তা বাহিনীর নিক্ষিপ্ত উচ্চ-বিস্ফোরক বোমার আঘাতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে।
স্থানীয় সামরিক সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ওই এলাকায় কোনো সক্রিয় যুদ্ধ চলছিল না কিংবা কোনো বিপ্লবী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল না। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সেখানে কোনো সংঘর্ষ ছিল না। তারা স্রেফ বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।” তিনি এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে চালানো এক সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ওয়েটলেট টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলার তীব্রতা গত মাস থেকেই বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
ডিসেম্বর ২০২৫: শুধুমাত্র এক মাসেই ওয়েটলেটে ১৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হতাহত: এসব হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে জান্তা বাহিনীর স্থল সেনারা হটোন বো, হমাউ ও, এবং কান ফিউ গ্রামে অবস্থান করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, গত ৩ জানুয়ারি এই সেনারা পার্শ্ববর্তী ইউয়ার থিত গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও রান্নাঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এই অভিযানে সামরিক পরিবহন বিমানের মাধ্যমে জান্তা সেনাদের কাছে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।










