Home সারাদেশ বিয়ের আনন্দ নিমেষেই বিষাদ: বর-কনেসহ নিহত ১৩

বিয়ের আনন্দ নিমেষেই বিষাদ: বর-কনেসহ নিহত ১৩

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, বাগেরহাট: একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন মার্জিয়া আর সাব্বির। কয়েক ঘণ্টা আগেই সম্পন্ন হয়েছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। স্বজনদের হাসাহাসি আর আনন্দ-উল্লাসে মুখরিত ছিল মাইক্রোবাসটি। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দযাত্রা শেষ হবে হাসপাতালের হিমঘরে? বাগেরহাটের রামপালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নবদম্পতিসহ অন্তত ১৩ জন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন।

নিহতদের মধ্যে কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর বোন লামিয়া এবং তাঁদের নানি রয়েছেন। অন্যদিকে বরের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জানান, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে ছিল আজ। খুলনা থেকে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রাজ্জাক সাহেব, তাঁর ছেলে সাব্বির, পুত্রবধূ মার্জিয়াসহ পরিবারের মোট ৮ জন সদস্যকে। মাইক্রোবাসের চালক এবং কনেপক্ষের আরও কয়েকজনসহ মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ এবং এসআই কে এম হাসানুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি যাচ্ছিল মোংলার দিকে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: এখানে চারজনের মরদেহ রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ৯ জনের মরদেহ পৌঁছায়। হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং বাকিরা পুরুষ। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হলেও পরে তিনিও মারা যান।

খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় দুপুরে বিয়ে শেষ করে মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল সবার। বাড়িতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন আত্মীয়-স্বজনরা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো কান্নার রোলে। একটি সাজানো মাইক্রোবাসের ধ্বংসাবশেষ এখন সাক্ষী হয়ে আছে এক অকাল বিয়োগান্তক ঘটনার।

আহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।